শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ককরোচ পার্টির
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ।
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের এক দফা দাবি থেকে একচুলও সরে আসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন ও অনশন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
গত বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস সাংবাদিকদের বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই এখন আমাদের মূল দাবি। এটি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না।”
তিনি আরও জানান, বিখ্যাত পরিবেশকর্মী ও আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দিনভর একাধিকবার আলোচনা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
‘অহিংসাই আমাদের শক্তি’—অভিজিৎ দিপকে:
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের আন্দোলনের মূল শক্তি নিহিত রয়েছে শান্তি ও অহিংসার মধ্যে। সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মুখেও আমাদের কর্মী-সমর্থকেরা যে অভূতপূর্ব ধৈর্য, সাহস ও সংযম প্রদর্শন করেছেন, তার জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই। সোনম ওয়াংচুকের এই ঐতিহাসিক অনশন ও আত্মত্যাগ আমরা কোনোভাবেই বিফলে যেতে দেব না।”
সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারের শর্ত:
অনশনরত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক বুধবার জানান, পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো বিক্ষোভকারী বা শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সরকার যদি কোনো ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার স্পষ্ট ও নিঃশর্ত আইনি আশ্বাস দেয়, তবেই তিনি অনশন প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
দিল্লি ও মুম্বাইয়ে সংঘর্ষ ও ২৩টি মামলা:
এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত ১৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৪০০ জনের বিরুদ্ধে বেআইনি সমাবেশ ও আদেশ অমান্যের অভিযোগে ১০টি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। একইভাবে মুম্বাইয়ে সিজেপির সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে আরও ১৩টি মামলা ঠুকেছে মুম্বাই পুলিশ।
গত বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরের কাছে আন্দোলনকারীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) ও দিল্লি পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও সীমিত বলপ্রয়োগ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় সংঘর্ষে দিল্লি পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।


