দল থেকে বহিষ্কার হলেও পদ হারাচ্ছেন না এমপি গাজী নজরুল
ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হলেও গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হচ্ছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
অনৈতিক ক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদ বাতিল হওয়া নিয়ে আইনগত ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলেই ওই ব্যক্তির সংসদ সদস্য (এমপি) পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যায় না।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
সংবিধান ও আইনের বিধান কী বলে?
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “দল থেকে বহিষ্কার করার কারণেই কারো এমপি পদ চলে যাবে—সংবিধানে এমন কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে আসন শূন্য হওয়ার নিয়ম রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্য বিরোধ নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্যের যোগ্যতা বা পদ বহাল থাকা নিয়ে দ্বিমত দেখা দিলে মাননীয় স্পিকার বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। স্পিকারের নিকট থেকে রেফারেন্স এলে ইসি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ঘটনার পটভূমি:
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি আমলে নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে ‘নৈতিক স্খলন’-এর দায়ে গত ২১ জুলাই তাঁকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। গত পরশু ২২ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে দলটি এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে এবং নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার কথা জানায়।
তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও ইসির আইনি ব্যাখ্যানুযায়ী, স্পিকারের কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে গাজী নজরুলের আসন বহাল থাকছে।


