সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক চুক্তিতে ট্রাম্পের অনুমোদন

সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের পারমাণবিক চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Jul 22, 2026 - 13:45
 0  4
সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক চুক্তিতে ট্রাম্পের অনুমোদন
×

সৌদি আরবে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনে দেশটির মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের (ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট) সুযোগ সংবলিত এক ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

​আজ বুধবার (২২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ স্থানীয় সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিও খবরটি প্রকাশ করে।

মেগা চুক্তি ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি এই মেগা চুক্তির সম্ভাব্য আর্থিক মূল্য দাঁড়াবে শত শত বিলিয়ন ডলার। এই চুক্তির মূল কৌশলগত উদ্দেশ্য হলো— সৌদি আরবের উদীয়মান পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়নে শীর্ষ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল ভূমিকা দেওয়া এবং এ খাতে চীন বা রাশিয়ার মতো অন্যান্য বিদেশি প্রতিযোগী দেশকে পুরোপুরি দূরে রাখা।

​চুক্তির অন্যতম বড় শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ কারিগরি পর্যালোচনায় যদি সত্যিই প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত হয়, তবে সৌদি ভূখণ্ডে একটি সর্বাধুনিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো।

নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য বাধা

চুক্তিটির আওতায় সৌদি আরবের সামগ্রিক পারমাণবিক কর্মসূচি তদারকি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি প্রবেশাধিকার থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দাবি, এ ধরনের কঠোর যৌথ নজরদারির ফলে সৌদি পারমাণবিক কর্মসূচিটি যেন কোনোভাবেই সামরিক উদ্দেশ্যে বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত না হতে পারে, তা শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

​তবে এটি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হলে সেখানে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান জটিল ও অস্থিতিশীল ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের হাতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো সংবেদনশীল প্রযুক্তি তুলে দেওয়া নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অনেকের মধ্যেই গভীর উদ্বেগ রয়েছে।