শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ছাটাই বন্ধ করতে হবে এবং চাকরিচ্যুতদের বেতন-ভাতা ও কর্মসংস্থান দিতে হবে’: মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে অন্তত ২০ হাজার পোশাক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন জানিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি অবিলম্বে ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানান।
শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর তথ্য বিশ্লেষণে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কমপক্ষে ২০ হাজার শ্রমিক চাকরিচ্যুত কিংবা ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের শ্রমিকেরা ন্যূনতম মজুরিতে দিনরাত পরিশ্রম করেন। আকস্মিক চাকরি চলে গেলে মুহূর্তের মধ্যেই তারা পরিবারসহ চরম মানবিক সংকটে নিপতিত হন। তাই তুচ্ছ কারণে, শৃঙ্খলা রক্ষার নামে কিংবা মালিকপক্ষের আর্থিক সমস্যার অজুহাতে ঢালাও শ্রমিক ছাঁটাই অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”
আজ সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কুষ্টিয়া জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বার্ষিক ‘মজলিসে শুরা’ বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমিক ছাঁটাই কেবল শ্রম সমস্যা নয়, বড় মানবিক সংকট:
জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুরার বৈঠকে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “পোশাক শ্রমিকদের কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয় থাকে না। বর্তমান বাজারে চাকুরির তীব্র দুষ্প্রাপ্যতার কারণে ছাঁটাইয়ের পর তারা দ্রুত নতুন কাজও জোগাড় করতে পারেন না। এমন বাস্তবতায় শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ছাঁটাই কেবলই শ্রম সংক্রান্ত সাধারণ কোনো সমস্যা না, এটি এখন গভীর আর্থ-সামাজিক ও মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে।”
তিনি মালিকপক্ষের অজুহাতের সমালোচনা করে বলেন, “মালিক পক্ষ বিদেশি ক্রয়াদেশ (অর্ডার) কমে যাওয়ার কথা বলছেন। ক্রয়াদেশ খানিকটা কমেছে সত্য, তবে সেটা আহামরি কিছু না। যে শ্রমিকেরা স্বল্প বেতনে রক্ত পানি করে দেশের এই প্রধান রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রেখেছে, ব্যবসার সামান্য খারাপ সময়ে সেই শ্রমিকদের এভাবে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক বা মানবিক হতে পারে না।”
মালিক ও শ্রমিক পরস্পর বিরোধী শক্তি নয়:
ট্রেড ইউনিয়ন করার উদ্যোগ নেওয়ার কারণে অনেক কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে—শ্রমিক নেতাদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহাসচিব বলেন, “আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার। আমরা মালিক ও শ্রমিককে পরস্পর বিরোধী কোনো প্রতিপক্ষ শক্তি হিসেবে দেখতে চাই না; বরং তারা একে অপরের সহায়ক ও পরিপূরক শক্তি। মালিক বাঁচলে শ্রমিক বাঁচবে, আর শ্রমিক টিকলে শিল্প টিকবে। তাই ইতোমধ্যেই যেসব শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন, তাদের বকেয়া সকল বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে এবং তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নিতে হবে।”
জনগণের রাজনৈতিক চেতনা জাগ্রতের আহ্বান:
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “দেশের আপামর মানুষ অনেক বড় প্রত্যাশা নিয়ে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তাদের সেই প্রত্যাশাগুলো দিন দিন ফিকে হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিতে হবে। জনগণকে সংঘবদ্ধ করে দল ও জনতাকে সঠিক রাজনৈতিক চিন্তায় গড়ে তুলতে হবে। অন্ধ দলকানা নীতি থেকে মানুষকে বের করে এনে অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনায় সচেতন করে তুলতে হবে।”
অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা শাখার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ওলামায়ে কেরাম এবং মজলিসে শুরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের কাজ আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


