মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী কোটা অনুমোদনে বড় পরিবর্তন
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। ‘কেস-বাই-কেস’ ম্যানুয়াল ব্যবস্থা বাতিল করে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ওয়ান স্টপ সেন্টার চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা প্রথাগত ‘কেস-বাই-কেস’ (ব্যক্তিগত বা ম্যানুয়াল) অনুমোদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন থেকে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল আবেদন ও স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন প্রক্রিয়া চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।
আজ রোববার (৬ জুলাই ২০২৬) রাজধানী কুয়ালালামপুরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আরামানান এই যুগান্তকারী ঘোষণা দেন।
তদবির কালচার বন্ধ, সব হবে অনলাইনে:
সংবাদ সম্মেলনে মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আরামানান বলেন, “এখন থেকে বিদেশি কর্মী কোটা অনুমোদনের জন্য কোনো নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি প্রতিনিধিকে মন্ত্রণালয়ে এসে ব্যক্তিগতভাবে কোনো আবেদন কিংবা তদবির করতে হবে না। সকল আবেদন ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (FWCMS)-এর মাধ্যমে অনলাইনে জমা, তথ্য যাচাই ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হবে।”
মন্ত্রী জানান, নতুন এই পেপারলেস ও ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে কোটা আবেদন প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে অপ্রয়োজনীয় মানুষের ভিড় ও দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে।
মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়ান স্টপ সেন্টার:
তিনি আরও জানান, দেশটির মন্ত্রিসভার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনার ‘ওয়ান স্টপ সেন্টার’ (OSC) এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট খাতভিত্তিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অনলাইনে প্রাপ্ত আবেদনসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করে তাদের প্রফেশনাল সুপারিশ ওয়ান স্টপ সেন্টারে পাঠাবে। এরপর নির্ধারিত কঠোর নীতিমালা ও কোটা গাইডলাইন অনুযায়ী চূড়ান্ত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ম্যানুয়ালি বা সনাতন পদ্ধতিতে জমা দেওয়া ৫৪৮টি প্রতিষ্ঠানের মোট ২২ হাজার ৪৭৬টি বকেয়া কোটা আবেদনও নতুন এই ডিজিটাল ও ওয়ান স্টপ ব্যবস্থার আওতায় এনে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
স্থানীয় নাগরিকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে আগে:
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী স্পষ্ট করে মনে করিয়ে দেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করার আগে নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই ‘মাই ফিউচার জবস’ (MyFutureJobs) পোর্টালে স্থানীয় মালয়েশীয় নাগরিকদের জন্য চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। একই সাথে দেশটির ‘অ্যামপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৫’-এর সেকশন ৬০ হাজার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নিতে হবে। বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর যদি যোগ্য স্থানীয় কর্মী পাওয়া না যায়, কেবল তখনই শর্তসাপেক্ষে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য আবেদন গ্রাহ্য হবে।
তবে বিদেশি কর্মীদের চূড়ান্ত কর্মসংস্থান পাস (Employment Pass) ও ওয়ার্ক পারমিট (ভিসা) ইস্যুর মূল আইনি দায়িত্ব আগের মতোই মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনেই ন্যস্ত থাকবে বলে জানান তিনি।
মালয়েশিয়া সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তকে দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন উৎস দেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


