শীগগিরই ৬০৪ কোটি টাকার টিকা আসছে : হাম নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

দেশে হামের সংক্রমণ রোধে ইউনিসেফের মাধ্যমে ৬০৪ কোটি টাকার টিকা আনছে সরকার; এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই দেশে পৌঁছাবে ৬ রোগের এই প্রতিষেধক।

Mar 30, 2026 - 16:29
 0  4
শীগগিরই ৬০৪ কোটি টাকার টিকা আসছে : হাম নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
×

দেশে হামসহ বিভিন্ন শিশু রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে ছয়টি রোগের টিকা আমদানিতে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফকে ৬০৪ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

টিকা আমদানির বর্তমান অবস্থা

​স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এই বিপুল পরিমাণ টিকা দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "ইউনিসেফকে ইতিমধ্যে পেমেন্ট করা হয়েছে। পারচেজ কমিটির অনুমোদন পেলেই অর্ডার দেওয়া হবে এবং দ্রুত সরবরাহ শুরু হবে। ২০১৮ সালের পর দেশে হাম নিয়ে বড় কোনো ক্যাম্পেইন না হওয়ায় সচেতনতায় কিছুটা ঘাটতি ছিল, যা এখন দূর করা হবে।" একই সঙ্গে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য সরকারিভাবে আরও ২০টি বিশেষ ভেন্টিলেশন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন

​মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ, নার্সিং সেবার মানোন্নয়ন এবং আইসিইউ ঝুঁকি মোকাবিলায় ৫ সদস্যের একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী মে মাসের মধ্যে এই গ্রুপের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।

ইউনিসেফের উদ্বেগ ও পরিসংখ্যান

​এদিকে বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে অগ্রগতি হলেও ইউনিসেফ কিছু উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে:

​দেশে প্রায় ৪ লাখ শিশু সব ধরণের টিকা সময়মতো পায়নি।

​প্রায় ৭০ হাজার (১.৫%) শিশু এখন পর্যন্ত একটি টিকাও পায়নি।

​গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহর অঞ্চলে টিকা না পাওয়ার হার বেশি। শহরে মাত্র ৭৯% শিশু পূর্ণ ডোজ টিকা পেয়েছে, যেখানে গ্রামে এই হার ৮৫%।

​স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, টিকা আসার পরপরই দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম কয়েকগুণ জোরদার করা হবে। বিশেষ করে যে ৫ লাখ শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।