ইরাকে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় নিহত ৮

নিজ দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে ড্রোন হামলার জবাবে ইরাকের নিনভে প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এতে পিএমএফের ৮ সদস্য নিহত হয়েছেন।

Jul 29, 2026 - 12:49
 0  3
ইরাকে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় নিহত ৮
×

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় নিনভে প্রদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের (পিএমএফ) অন্তত ৮ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

​আজ বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের (পিএমএফ) নিনভে কমান্ড এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাদের ৮ জন সদস্য নিহত এবং আরও ৪ জন গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

​আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, বিমান হামলার পরপরই নিনভেহ প্রদেশের একাধিক স্থান ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসরা প্রদেশ থেকে তীব্র ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশে উঠতে দেখা যায়। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার ফাইটারদের দুর্ঘটনাস্থলের দিকে যেতে দেখা গেছে।

যৌথ হামলার নেপথ্য কারণ

​সৌদি আরবের নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামোতে সংঘটিত সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার কড়া জবাব দিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ইরাকে এই সামরিক অভিযান চালিয়েছে সৌদি বিমান বাহিনী। তারা মূলত ইরাকের আধা-সামরিক গোষ্ঠী পিএমএফের বিভিন্ন গোপন ঘাঁটি, অস্ত্রাগার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলা চালায়।

​আজ বুধবার সকালে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানায়, 'ইরান-সংশ্লিষ্ট' সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে এ যৌথ হামলা চালানো হয়েছে।

​সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশে ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে অন্তত ৩০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। তার পাল্টা জবাব হিসেবেই পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলীয় ইরাকের সন্ত্রাসী অবকাঠামোগুলোতে নির্ভুল নিশানায় এ যৌথ বিমান হামলা চালানো হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কঠোর বার্তা

​মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে ইরান-সমর্থিত বেশ কিছু ইরাকি গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের নাগরিক ও অবকাঠামোর ওপর ৬০০টিরও বেশি রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

​মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে—ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যদি নিজেদের আরও বড় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে চায়, তবে তাদের অবিলম্বে সৌদি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে।