জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা
গ্রেপ্তার ও প্রাণনাশের ঝুঁকি জেনেও বাংলাদেশে ফিরতে চান ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি।
জীবনের ঝুঁকি, গ্রেপ্তার বা সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ড জেনেও বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ভারতে পলাতক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বার্তা সংস্থা এএফপি-কে ই-মেইলের মাধ্যমে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাকে হত্যা করা হতে পারে, আমাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, কিংবা কারাগারে পাঠালও হতে পারে। আমি আমার পরিণতি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। তবে তা সত্ত্বেও আমি দেশে ফিরতে চাই, কারণ আমার দেশের মানুষ আমাকে ডাকছে।”
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপি এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে।
বিচার, মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের বিশেষ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেছেন। তবে এই রায়কে 'আইনের পোশাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ' বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের (Extradition) আবেদন পাঠিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবেদনটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
তবে শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের সাথে ভারতের প্রত্যর্পণ আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আমি ভারতে পূর্ণ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে অবস্থান করছি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণ নিয়ে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আমার নিজের। এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আমার ওপর কোনো ধরনের চাপ নেই।”
অভ্যুত্থান ও দমন-পীড়ন সংক্রান্ত বক্তব্য
বিগত সরকারের আমলে বিরোধী দল দমন, বিচারব্যবস্থা প্রভাবিতকরণ ও একতরফা নির্বাচনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, এগুলোর অধিকাংশই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও নাকচ করে তিনি বলেন, “আমার সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য দেখিয়েছিল এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছিল। এটি কেবল সাধারণ কোনো আন্দোলন ছিল না; বরং এটি ছিল পরিকল্পিত সহিংসতা ও সরকার উৎখাতের সুসংগঠিত চক্রান্ত।”
আন্দোলনের সময় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানালেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ক্ষমা চাননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, প্রতিটি পরিবারের প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি রয়েছে। তবে রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির নয়। তাই পুরো সংকটের প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট একটি মুহূর্তকে আলাদা করে বিচার করা ঠিক হবে না।”


