পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ ও জন-আকাঙ্ক্ষার মুখে বিএনপি সরকার: ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদন
প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ।
দীর্ঘ দুই দশক পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিলেও বিএনপি সরকারকে এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ ও জনগণের আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’ (আইসিজি) প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।
ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ:
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট পরিস্থিতিকে নাজুক করে রেখেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রবাদে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং শিল্প খাতকে সচল রাখাই হবে সরকারের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ।
সুশাসন ও প্রশাসনিক সংস্কার:
ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, দুর্নীতি দমন এবং বিচারব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এছাড়া গণভোটে পাস হওয়া ‘জুলাই সনদ’ বা সংস্কার প্যাকেজ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার পথ খুঁজতে বিএনপিকে দূরদর্শিতার পরিচয় দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ভারসাম্য ও আওয়ামী লীগ ইস্যু:
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সরকারকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে প্রক্রিয়ার বাইরে রাখলে নতুন করে অস্থিরতা ও সহিংসতার জন্ম দিতে পারে। প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
পররাষ্ট্রনীতির চ্যালেঞ্জ:
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলী ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইসিজি। বিশেষ করে গত দেড় দশকের তিক্ততা কাটিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধান করা এক বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা। এছাড়া মিয়ানমার সংঘাত ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তা:
সবশেষে ক্রাইসিস গ্রুপ সতর্ক করেছে যে, নির্বাচনের পরবর্তী এই ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বা স্বল্প সময়ের মধ্যে যদি সরকার দ্রুত সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে না পারে, তবে জন-অসন্তোষ পুনরায় তীব্র হতে পারে। জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে দেশ আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার আবর্তে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
#InternationalCrisisGroup #BNP #BangladeshPolitics #EconomicCrisis #Reform #JulySanad #PressPoint


