হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল বা শুল্ক আদায়ের নতুন শর্ত দিয়েছে ইরান; প্রতিটি জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি নেওয়ার দাবি।

Mar 28, 2026 - 17:27
 0  12
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত ইরানের
হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাংকার ও পণ্যবাহী জাহাজ।
×

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের জবাবে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’তে জাহাজ চলাচলে নতুন কঠোর শর্ত আরোপ করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) দেশটির পার্লামেন্টে প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে টোল বা নিরাপত্তা ফি আদায়ের জন্য একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

টোল আদায় ও নতুন আইনি কাঠামো:

ইরানি গণমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে এই শুল্ক আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত রোববার ইরানের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি জানান, বর্তমানে কিছু জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, "যুদ্ধের খরচ মেটাতেই এই ফি নেওয়া স্বাভাবিক বিষয়।" যদিও আইনি কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা ‘লয়েডস লিস্ট’ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহ ধরেই ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি অনানুষ্ঠানিক টোল ব্যবস্থা চালু রেখেছে।

জাহাজ চলাচলের প্রক্রিয়া ও শর্তাবলি:

বর্তমানে প্রণালির দুই পাশে প্রায় ২ হাজার জাহাজ আটকা পড়ে আছে। আইআরজিসি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের শর্তগুলো হলো:

​নিবন্ধিত মধ্যস্থতাকারী: জাহাজ মালিকদের প্রথমে আইআরজিসি-সংযুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জাহাজের নথি, আইএমও নম্বর ও ক্রুদের তথ্য জমা দিতে হয়।

​বিশেষ কোড: তথ্য যাচাই শেষে আইআরজিসি একটি বিশেষ কোড ও রুট নির্দেশনা প্রদান করে।

​রেডিও ভেরিফিকেশন: প্রণালিতে প্রবেশের সময় রেডিওর মাধ্যমে কোডটি যাচাই করা হয় এবং ইরানি নৌবাহিনী জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায়।

​নিষেধাজ্ঞা: যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য এই পথ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে চীন, ভারত, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু জাহাজ শর্তসাপেক্ষে পারাপারের অনুমতি পেয়েছে।

বৈশ্বিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া:

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির প্রধান সুলতান আল-জাবের এই পদক্ষেপকে “অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ” বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘ সমুদ্র আইনের দোহাই দিলেও ইরান দাবি করছে তারা এই আইনে বাধ্য নয়। এই সংকটের ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি রেশনিং এবং শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।