যুদ্ধের মধ্যেও তেলের বাজারে ইরানের জয়জয়কার: দৈনিক আয় ১৪ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধিতে লাভবান হচ্ছে ইরান; দৈনিক তেল রপ্তানি ও টোল থেকে আয় করছে প্রায় ১৪ কোটি ডলার।

Mar 27, 2026 - 17:49
 0  2
যুদ্ধের মধ্যেও তেলের বাজারে ইরানের জয়জয়কার: দৈনিক আয় ১৪ কোটি ডলার
×

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের এক মাস পার হলেও ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার উপার্জনে কোনো ভাটা পড়েনি। বরং যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় করছে তেহরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত সুবিধা:

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অবরোধ জারি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অবরোধের কারণে অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলেও ইরান নিজস্ব ‘ফ্ল্যাগশিপ’ জ্বালানি তেল ‘ইরানিয়ান লাইট’ নির্বিঘ্নে সরবরাহ করছে। বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে দেশটি।

আয় বাড়ার নেপথ্যে কারণ:

বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর মতে, যুদ্ধের কারণে ইরানের তেল উত্তোলনে কোনো প্রভাব পড়েনি। উল্টো সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইরানের আয় গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় দৈনিক ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো থেকে টোল আদায় বাবদ প্রতিদিন আরও ২০ লাখ ডলার আয় করছে তেহরান।

​আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড নেফিউ মন্তব্য করেছেন, "ইরানের তেল খাত দখলের যে উদ্দেশ্য যুদ্ধের পেছনে ছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে। বরং ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত ইরানের সামনে মুনাফার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।"