ইসলামী আন্দোলনকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হয়েছিল: গাজী আতাউর রহমান
নির্বাচন কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে বিভক্ত ও ধ্বংসের চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নে সরকারের নীরবতার সমালোচনা।
গত জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে বিভাজিত ও ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেছেন, “আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের খাস রহমত ও বরকতে সেই অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সব বাধা অতিক্রম করে ইসলামী আন্দোলন এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।”
গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেলে রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে শূরার গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ইখলাস ও তাকওয়া ছাড়া দ্বীনের বিজয় অসম্ভব’
রাজনীতিতে নৈতিকতা ও আদর্শের গুরুত্ব তুলে ধরে গাজী আতাউর রহমান বলেন, “নৈতিক ভিত্তি ও খাঁটি আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে বাহ্যিক চাপ দিয়ে ধ্বংস করা যায় না। মানুষের জাগতিক উন্নয়ন দিয়ে কখনো আত্মিক মুক্তি আসে না; এজন্য চাই নৈতিক ও আদর্শিক পরিবর্তন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ইসলামের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে স্পষ্ট যে, কেবল অর্থবিত্ত, লোকবল বা বাহ্যিক সক্ষমতার শক্তিতে দ্বীন বিজয়ী হয়নি; বিজয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল আল্লাহর সাহায্য। ব্যক্তি সক্ষমতার সাথে সাথে প্রতিটি নেতাকর্মীকে ইখলাস, তাকওয়া ও রবের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামী জীবনব্যবস্থা বাস্তবায়নের পথে ইখলাস ও তাকওয়ার ঘাটতিই অন্যতম বড় অন্তরায়।”
'জুলাই সনদ' নিয়ে সরকারের নীরবতায় ক্ষোভ
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, “ইসলামী আন্দোলনের সাফল্য কেবল সংসদে আসন সংখ্যার অঙ্কে মাপা যায় না; আমাদের মূল শক্তি লুকিয়ে আছে নৈতিক ও আদর্শিক শ্রেষ্ঠত্বের মাঝে।”
সরকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার সময় কয়েকটি বড় দলের বাধার মুখে ঐতিহাসিক 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন আটকে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে ক্ষমতায় এলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তার রাজনৈতিক পরিণতি সরকারের জন্য শুভ হবে না।”
অধিবেশনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূমের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মো. আব্দুল আউয়াল মজুমদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহর যৌথ পরিচালনায় অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী।
এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান আল হাদী, আলহাজ এম এইচ মোস্তফা, আলহাজ আলতাফ হোসেন, আলহাজ আনোয়ার হোসেন, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা, মাওলানা নাযির আহমদ শিবলী এবং হাফেজ শাহাদাত হোসেন প্রধানিয়াসহ মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


