ইবিতে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হেনস্তা ও কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ আগস্টের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হেনস্তা, মারধরের চেষ্টা ও কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

Aug 17, 2026 - 16:50
Aug 17, 2026 - 16:50
 0  1
ইবিতে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হেনস্তা ও কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
×

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হেনস্তা, মারধরের চেষ্টা এবং তাদের কক্ষ ও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তাকে ক্যাম্পাসে না আসার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, টিএসসিসি ও কয়েকটি বিভাগে এসব ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা ফেসবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দেন। এর জেরে রোববার দুপুরে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তার কক্ষ ও অফিসে গিয়ে হেনস্তা ও ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার ইব্রাহিম হোসেন সোনারের কক্ষে গিয়ে ভাঙচুর ও তাকে হেনস্তা করা হয় বলে জানা গেছে। পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদের কাছে গিয়ে তাকে হুমকি এবং মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর টিএসসিসির সহকারী রেজিস্ট্রার বিপুল আহমেদের কক্ষে গিয়ে তাকে মারধর ও টেবিল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতির কক্ষে গিয়ে সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীকেও হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের কক্ষে গিয়ে তাকে হুমকি ও হেনস্তা এবং টেবিল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময় শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবিও ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্যাম্পাসে না আসার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এসব ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ প্রায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ তৌফিক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য রেজাউল ইসলাম রাকিব, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহরিয়ার রশিদ নিলয়, খালেদ সাইফুল্লাহ, কর্মী রাহি, সাবিক, উল্লাস মাহমুদ, নাঈম, সিজান ও সাগর আলী এবং কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তাদির আহমেদের নাম রয়েছে।

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. উম্মে সালমা লুনা বলেন, “আমার কক্ষে এসে তারা এই ঘটনা করেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। যাওয়ার সময় তারা আমার কিছু শিক্ষার্থীকেও মারধর করেছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।”

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদ বলেন, “তারা এসে জানতে চায়, মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক জানিয়ে পোস্ট দিয়েছি কেন। এরপর আমাকে ক্যাম্পাসে না আসার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তারা আমার দিকে একটি প্লেট ছুড়ে মারে এবং মারতে উদ্যত হয়।”

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগকে নিয়ে পোস্ট করে ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তা রুখে দিতে ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে। তাদের নজরে আসা বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে প্রয়োজনে আমরা আইন হাতে তুলে নেব। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমাদেরই আইন হাতে তুলে নিতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে মিটিং করছি। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে ডেকে কথা বলেছি। তারা বিষয়টিতে ভুল স্বীকার করেছে। আমি আশা করছি, তারা ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য আইন রয়েছে। কেউ আইন লঙ্ঘন করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। কোনো ব্যক্তি বা ছাত্রসংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তার ওপর চড়াও হতে পারে না।”

তিনি আরও জানান, ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।