মাদককারবারির তথ্য দিলে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা এমপি মাসুদের
বাউফলে মাদক নির্মূলে তথ্যদাতাকে নগদ ৫ হাজার টাকা পুরস্কার এবং পরিচয় গোপন রাখার ঘোষণা দিলেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সমাজে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রুখতে ও মাদককারবারিদের চিহ্নিত করতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যেকোনো মাদককারবারির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও সঠিক তথ্য দিতে পারলে তথ্যদাতাকে তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) বাউফল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।
'মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, চাই মাদক নির্মূল অধিদপ্তর'
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তাঁর বক্তব্যে জাতীয় সংসদ ও সরকারি নীতিমালায় মৌলিক পরিবর্তনের দাবি তুলে ধরে বলেন, “আমাদের দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং মাদক পুরোপুরি নির্মূলের নীতি গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যেই আমি জাতীয় সংসদে 'মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর'-এর নাম পরিবর্তন করে 'মাদক নির্মূল অধিদপ্তর' গঠনের জোর প্রস্তাব উপস্থাপন করেছি।”
তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “নিয়ন্ত্রণ শব্দটির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে মাদক কেনাবেচার সুযোগ থেকে যায়। কিন্তু 'নির্মূল' শব্দের অর্থ হলো দেশ থেকে মাদকের সকল শিকড় উপড়ে ফেলা এবং তরুণ সমাজকে এই অভিশাপ থেকে চিরতরে রক্ষা করা। অথচ বিগত দিনের সরকারগুলো স্থায়ী নির্মূলের পথ না খুঁজে বারবার নিয়ন্ত্রণের কথা বলে এসেছে, যার সুযোগে সিন্ডিকেটগুলো সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।”
সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান
একটি নিরাপদ, মানবিক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার তাগিদ দিয়ে এমপি মাসুদ বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিকদের একযোগে মাঠে নামতে হবে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের গ্রাস থেকে তরুণদের রক্ষা করতে প্রতিটি পাড়ায়-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ ও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
একই সাথে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের সর্বদা সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান।


