​৫ মাসে কিছুই বদলায়নি, ঘুষখোররা এখনও ঘুষ খাচ্ছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পাঁচ মাস পার হলেও প্রশাসনের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি বলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Jul 30, 2026 - 21:04
 0  4
​৫ মাসে কিছুই বদলায়নি, ঘুষখোররা এখনও ঘুষ খাচ্ছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম
×

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে ক্ষমতার রদবদল হলেও সমাজের মূল জায়গায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসার বিষয়ে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, "প্রশাসন ও সমাজে আগের সেই পুরোনো সংস্কৃতিই রয়ে গেছে। গত চার-পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি—বাস্তবে কিছুই বদলায়নি।"

​আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর কাকরাইলস্থ তথ্য ভবনে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

​মির্জা ফখরুল নিজের ব্যক্তিগত হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “কথাগুলো অনেক কষ্ট ও আক্ষেপ নিয়ে বলছি। আমার বয়স অনেক হয়েছে, আমি সত্যিকার অর্থেই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দেশে একটা গুণগত পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের আচরণের মধ্যে এখনো সেই পরিবর্তন দেখছি না। যারা আগে ঘুষ খেতেন, তারা এখনো ঘুষ খাওয়ার ফন্দি-ফিকির আঁটছেন। যারা আগে ভালো কাজ আটকে দিতেন, তারা এখনো আটকে রাখছেন।”

​'ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন বড় জুলাইযোদ্ধা'

​কর্মক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতার পতনের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “প্রশাসনে ও চারপাশে রাতারাতি ভোল পাল্টানোর এক অনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে। যারা আগে এক রাজনৈতিক ভাবধারায় ছিলেন, তারা ভোল পাল্টে নিজেদের বড় জুলাইযোদ্ধা দাবি করছেন এবং তোষামোদিতে মেতে উঠেছেন।”

​তবে এই বাস্তবতার মাঝেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পরিবর্তন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “এত হতাশার মাঝেও আমি আশাবাদী একজন মানুষের দূরদর্শিতা ও সদিচ্ছার কারণে—তিনি তারেক রহমান। তিনি দেশের প্রতিটি খাতে পরিবর্তন আনার জন্য নতুন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁকে সমর্থন করি এবং তাঁর দেখানো নজিরগুলোকে সামনে নিয়ে এগোই, তবেই হয়তো এই দেশে সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে।”

দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের তাগিদ

​দৈনন্দিন নাগরিক জীবনের শৃঙ্খলা নিয়ে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “তারেক রহমান সাহেব বাচ্চাদের উদ্বুদ্ধ করছেন নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য, সিটি করপোরেশনকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নির্দেশ দিচ্ছেন। কিন্তু সমস্যা হলো, তিনি বা আমরা যতক্ষণ তদারকি করছি, ততক্ষণ কাজ হচ্ছে; নজর সরিয়ে নিলেই আবার পুরোনো বিশৃঙ্খলা ফিরে আসছে।”

​তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “কেবল সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী ও ত্যাগী। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী প্রতিমুহূর্তে পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা যে যেখানে দায়িত্ব পালন করছি, সেখান থেকে সঠিকভাবে কাজ না করলে জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দিতে পারবে না।”