আ.লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেফতার
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা হিমেলের দুই চোখ হারানোর মামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গত ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে আহত ছাত্র হিমেলের দুটি চোখই চিরতরে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে মির্জাপুর পৌর সদরের গাড়াইল ও বাইমহাটী বাজার এলাকায় পৃথক দুটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে মির্জাপুর থানা পুলিশ তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মির্জাপুর উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা (৪৬)। অন্যজন হলেন একই উপজেলার গাড়াইল এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুর রাব্বি সাদ (২৪)।
গভীর রাতে সাঁড়াশি অভিযান ও গ্রেফতার:
মির্জাপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মির্জাপুর মডেল থানার একটি চৌকস টিম পৌর সদরের বাইমহাটী বাজার এলাকায় প্রথম অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। এর পরপরই পুলিশের দলটি গাড়াইল এলাকার রেজাউল করিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁর ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রাব্বি সাদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গোড়াই লালবাড়ি এলাকার ভুক্তভোগী ছাত্র হিমেলের মা নাসিমা বেগমের দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা সক্রিয় আসামি হিসেবে এই দুই রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশের ছররা গুলিতে হিমেলের দুই চোখ অন্ধের ঘটনা:
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার এক বিশাল বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছিল। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও তৎকালীন সরকারি দলের নেতাকর্মীরা নির্বিচারে ছররা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অন্যদের সঙ্গে মির্জাপুরের সাধারণ শিক্ষার্থী হিমেলও গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানান, পুলিশের ছররা গুলির তীব্র আঘাতে হিমেলের দুটি চোখই চিরতরে অন্ধ হয়ে গেছে। এই নির্মম ও পৈশাচিক ঘটনার বিচার চেয়ে একই বছরের ৭ অক্টোবর টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ আদালতে ১০০ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন হিমেলের মা নাসিমা বেগম।
মির্জাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ বুধবার জানান, “হিমেলের মায়ের দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলার সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে এই দুই নেতার সক্রিয় অপরাধের নাম উঠে আসে। তারই ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাদের টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে।”


