ইরানজুড়ে ফের বড় ধরনের মার্কিন বিমান হামলা, তীব্র সংঘাতের আশঙ্কা

কয়েক দিন বিরতির পর ইরানের বুশেহর, বন্দর আব্বাস ও কিশসহ একাধিক স্থানে নতুন করে শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্টকম এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

Jul 30, 2026 - 11:38
 0  5
ইরানজুড়ে ফের বড় ধরনের মার্কিন বিমান হামলা, তীব্র সংঘাতের আশঙ্কা
×

কয়েকদিন বিরতির পর ইরানে আবারও নতুন করে শক্তিশালী বিমান হামলা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আজ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম/CENTCOM) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

​সেন্টকমের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্কিন স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) গভীর রাতে ইরানজুড়ে এই সমন্বিত বিমান হামলা চালানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর ইরানের হামলা ও আগ্রাসনের প্রচেষ্টার কড়া জবাব হিসেবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

​স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিমান হামলার সময় ইরানের উপকূলীয় ও কৌশলগত অঞ্চল—কেশম, কিশ, বন্দর আব্বাস, আবাদান এবং বুশেহর এলাকায় বিকট শব্দে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বহুমুখী সংঘাতের নতুন বার্তা

​বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আক্রমণের মধ্য দিয়ে গত কয়েক মাস ধরে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট এখন চূড়ান্ত তীব্র রূপ ধারণ করল। একই সাথে এতে আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

​এদিকে, একই দিনে মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর ‘দামিয়েত্তায়’ যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তরল গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানায় ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে। অন্যদিকে, মার্কিন ও সৌদি বাহিনী পূর্ব ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালায়। জবাবে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।

​তবে মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় দামিয়েত্তা বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করলেও ড্রোন হামলার বিষয়টিকে সরাসরি স্বীকার করেনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর প্রতিক্রিয়া

​হামলার পরপরই হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চরম সামরিক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

​তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এবার আমাদের আঘাত করার পালা। ইরানকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সামরিক জবাব দেওয়া হবে।” তবে এর পাশাপাশি কূটনৈতিক উপায়ে শান্তিচুক্তি ও সমাধানের পথ খোলা রাখার বিষয়টিও তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন।

​অন্যদিকে, তেহরান জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটি এবং কৌশলগত প্রণালি ‘হরমুজে’ বিদেশি জাহাজে হামলা চালানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। একই সাথে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার বিষয়ে ওমানের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাবও নাকচ করে দিয়েছে ইরান।