পাটলাই নদীপথে অতিরিক্ত চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে শ্রীপুর বাজারে মানববন্ধন
তাহিরপুরের পাটলাই ও যাদুকাটাসহ ৪টি নদীতে বিআইডব্লিউটিএ ও টোল-ট্যাক্সের নামে অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধে শ্রীপুর বাজারে মানববন্ধন করেছে শ্রমিক ইউনিয়ন। ২৮ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের নৌ-ধর্মঘটের ঘোষণা।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই, যাদুকাটা, সুরমা ও লালপুর নদীপথে বিআইডব্লিউটিএ ও টোল-ট্যাক্সের নামে অবৈধ অর্থ আদায় এবং চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নদীপাড়ের শ্রমজীবী মানুষ।
চলমান এই বিরোধের অংশ হিসেবে সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) বিকেলে পাটলাই নদীর তীরে ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর বাজারে এক বৃহৎ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন (তাহিরপুর উপপরিষদ শাখা)-এর আয়োজনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে স্থানীয় ব্যবসায়ী, নৌযান মালিক, শ্রমিক, মাঝি এবং নদীপাড়ের শতাধিক সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
২৮ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের নৌ-ধর্মঘট
মানববন্ধন থেকে বক্তারা তাঁদের দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) সকাল থেকে সকল নদীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ-ধর্মঘটের ঘোষণা দেন।
বক্তারা সুস্পষ্টভাবে জানান, বিআইডব্লিউটিএ ও টোল-ট্যাক্সের নামে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পাটলাই, যাদুকাটা, সুরমা ও লালপুর নদীপথে কোনো প্রকার পণ্যবাহী কার্গো, ট্রলার বা বাল্কহেড চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
বিআইডব্লিউটিএ ও টোল আদায়ের নামে হয়রানির অভিযোগ
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি খলিল মিয়া। এতে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি রতন সরকার, সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফাসহ সাধারণ নৌ-শ্রমিকেরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নদীপথে চলাচলকারী পণ্যবাহী নৌযান থেকে নির্ধারিত হারের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ টোল আদায়ের কারণে ব্যবসায়ী ও নৌ-শ্রমিকরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং সীমান্ত নদী এলাকার স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা এই ধর্মঘটের মতো কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
নৌপথে অতিরিক্ত টোল ও অবৈধ অর্থ আদায়ের উঠে আসা গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ কিংবা সংশ্লিষ্ট ইজারাদার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


