ন্যাটো ছাড়ার হুমকি ট্রাম্পের: ‘তারা পাশে না থাকলে আমরা কেন থাকব?’— ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইউরোপীয় মিত্রদের অসহযোগিতার অভিযোগে ন্যাটো থেকে সরে আসার এবং ব্যয় কমানোর হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; ইরানের সাথে উত্তেজনার মাঝে এই ঘোষণা।

Mar 28, 2026 - 20:16
 0  5
ন্যাটো ছাড়ার হুমকি ট্রাম্পের: ‘তারা পাশে না থাকলে আমরা কেন থাকব?’— ডোনাল্ড ট্রাম্প
×

ইউরোপীয় মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট (ন্যাটো) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কমানো এবং প্রয়োজনে জোট থেকে সরে আসার চূড়ান্ত ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশগুলোর অনাগ্রহ ও নিষ্ক্রিয়তাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) এক ভাষণে তিনি এই হার্ডলাইন অবস্থান ব্যক্ত করেন।

ব্যয় সংকোচন ও মিত্রদের প্রতি ক্ষোভ:

ট্রাম্প তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ন্যাটো দেশগুলোকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর কয়েকশ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি ‘বিরাট ভুল’। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা সবসময়ই মিত্রদের পাশে থেকেছি, কিন্তু সংকটের সময়ে তাদের কাছ থেকে প্রতিদান পাওয়া যাচ্ছে না। ন্যাটো থেকে সরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক অর্থ সাশ্রয় করবে। আমরা কেন তাদের পাশে থাকব যদি তারা আমাদের প্রয়োজনে পাশে না থাকে?"

আনুগত্যের পরীক্ষা ও হরমুজ প্রণালি:

এর আগে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে মিত্র দেশগুলোকে নিজস্ব যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি এটিকে মিত্রদের জন্য ‘আনুগত্যের পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের মতে, যারা নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নৌযান পাঠানো একটি অত্যন্ত ‘সামান্য প্রচেষ্টা’ হওয়া উচিত ছিল।

কূটনৈতিক প্রভাব:

ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকি ন্যাটোর অভ্যন্তরে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের ব্যয়ভার এককভাবে বহন করতে নারাজ ট্রাম্প প্রশাসন এখন মিত্রদের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যরা যদি দ্রুত হরমুজ প্রণালিতে সক্রিয় না হয়, তবে আটলান্টিক পারের এই ঐতিহাসিক সামরিক জোটের ভবিষ্যৎ সংকটে পড়তে পারে।