রমজানে আফগানিস্তানে ধর্মীয় স্কুল-মসজিদে পাকিস্তানের হামলা, নিহত বেড়ে ৮০

রমজানে আফগানিস্তানের পাকতিকা ও নানগরহার প্রদেশে রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ধর্মীয় স্কুল ও মসজিদে চালানো এই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে।

Feb 23, 2026 - 12:50
 0  5
রমজানে আফগানিস্তানে ধর্মীয় স্কুল-মসজিদে পাকিস্তানের হামলা, নিহত বেড়ে ৮০
×

পবিত্র রমজান মাসের মধ্যেই আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান সূত্রগুলোর দাবি, পাকিস্তানি বাহিনী ধর্মীয় স্কুল (মাদ্রাসা), বেসামরিক ঘরবাড়ি ও মসজিদে এই হামলা চালিয়েছে। এতে শিশু ও নারীসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে।

​শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে আফগানিস্তানের পাকতিকা ও নানগরহার প্রদেশে এই অভিযান চালায় ইসলামাবাদ। আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ ও সিনহুয়ার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

​বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ

​পাকতিকা প্রদেশের বার্মাল জেলায় একটি ধর্মীয় স্কুলেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য আবদুল্লাহ জান বলেন, “গতকাল মধ্যরাতে হঠাৎ বিমান থেকে বোমাবর্ষণ শুরু হয়। টিটিপি সদস্যদের উপস্থিতির অজুহাতে তারা আমাদের বেসামরিক বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।”

​জেলার গভর্নর মিরজা আলি খান সাঈদ জানান, রাত ২টায় দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়ে বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, “পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। নারী ও শিশুরা আতঙ্কে দিগিবিদিক ছুটছিল। ধুলো আর ধোঁয়ায় বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছিল।”

​এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তথ্য মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত সফল অভিযান’ হিসেবে দাবি করেছে। ইসলামাবাদের ভাষ্যমতে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে সাতটি জঙ্গি ক্যাম্প ও আস্তানা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং নিহতরা সবাই জঙ্গি।

​পাকিস্তানের দাবি, সম্প্রতি বাজাউর ও বান্নু জেলায় সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্বের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে এবং এর ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ তাদের হাতে রয়েছে।

​তালেবানের পাল্টা জবাবের হুমকি

​আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান প্রশাসন পাকিস্তানের এই হামলাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এর ‘উপযুক্ত’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই হামলার ফলে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন চরম উত্তেজনার মুখে পড়েছে।

​বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিমান হামলার ঘটনা মধ্য এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিতে পারে।