মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর মা'রা'মারি, পুলিশসহ আ'হত কয়েকজন
শেরপুর সদর উপজেলায় মাইকিং করে লোকজন জড়ো হওয়ার পর দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘ'র্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আ'হত হয়েছেন।
শেরপুর সদর উপজেলায় মাইকিং করে লোকজন জড়ো হওয়ার পর দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘ'র্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আ'হত হয়েছেন। সংঘ'র্ষের কারণে শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সাড়ে চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ছয়টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ডাকপাড়া ব্যাঙের মোড় এলাকায় এ পরিস্থিতি চলে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সাতপাকিয়া পাইকারি কাঁচাবাজারে সবজি বহনকারী একটি গাড়ির সঙ্গে শরীরে ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ডাকপাড়া এলাকার এক কৃষককে মারধর করেন সাতপাকিয়া এলাকার কয়েকজন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে উত্তে'জনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে সংঘ'র্ষের আশঙ্কায় শুক্রবার রাতে মাইকিং করে লোকজনকে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। শনিবার সকালে দুই গ্রামের লোকজন শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘ'র্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা'ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আ'হত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাঁদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই পক্ষ সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাঙের মোড় এলাকায় সড়কের দুই পাশে দেশীয় অ'স্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন দুই পক্ষের লোকজন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইটপাটকেল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।
সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ বলেন, শুক্রবার কাঁচাবাজারে ভ্যানগাড়ির সঙ্গে ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে মারা'মারির সূত্রপাত হয়। পরে দুই গ্রামের লোকজন মাইকিং করে শনিবার সকালে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেন। এ কারণে পুলিশ ভোর থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘ'র্ষ শুরু হলে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ওসি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখনো কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


