নির্বাচনের পর গাড়ি-বাড়ি সব লাগে জামায়াতের: রাশেদ খান

নির্বাচনের পর জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিলাসী মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মারদিয়া মমতাজের মন্তব্যের জবাব।

Jun 9, 2026 - 14:37
 0  3
নির্বাচনের পর গাড়ি-বাড়ি সব লাগে জামায়াতের: রাশেদ খান
×

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রচারণার মাঠে ত্যাগের কথা বললেও, নির্বাচনে জিতেই জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজকীয় গাড়ি, বাড়ি ও বিলাসবহুল অফিস ছাড়া চলছে না বলে তীব্র কটাক্ষ ও সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই দলগুলোর আদর্শিক আইন এতটাই শক্তিশালী যে— নির্বাচনের আগে তাদের গাড়ি, বাড়ি, অফিস কিছুই লাগে না, কিন্তু ভোট শেষ হতেই সবকিছুর প্রয়োজন পড়ে।

​আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর পোস্টে গণ অধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া এই তরুণ রাজনৈতিক নেতা জামায়াত-এনসিপি জোটের বর্তমান সংসদীয় আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।

ক্ষমতায় যাওয়ার আগের ও পরের রূপ:

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, “শুরুতে জামায়াত-এনসিপি জোটের পক্ষ থেকে বড় বড় নীতি কথা বলা হয়েছিল যে, তারা ক্ষমতায় গেলে বা সংসদে গেলে কোনো ধরনের সরকারি বাড়ি-গাড়ির বিলাসী সুবিধা গ্রহণ করবে না। অথচ তারা সংসদে ঢুকা মাত্রই সুর বদলে ফেলল। প্রথমে চেয়ে বসল বিলাসবহুল গাড়ি, আর এর পরপরই শুরু হলো আলিশান অফিসের আবদার।”

এমপি মারদিয়া মমতাজকে রাশেদ খানের প্রশ্ন:

জামায়াতের টিকিটে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, “সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মারদিয়া মমতাজ আপা ইদানীং বলছেন যে, আত্মীয়ের বাসায় থেকে নাকি তাঁর সংসদে আসতে খুব কষ্ট হয়। উনি নিজেকে কোনো একটি নামী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা দাবি করতেন, আবার নিয়মিত বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে টকশো-তেও যেতেন। তাহলে দেশবাসীর কাছে আমার প্রশ্ন হলো— আপা কি এতদিন ঢাকা শহরে নিজের কোনো ব্যবস্থা না রেখে আত্মীয়ের বাসায় থেকেই শিক্ষকতা এবং টকশো করে বেড়াতেন? এখন এমপি হয়েই ওনার বাড়ি ছাড়া চলছে না?”

টকশো-র স্মৃতি ও জামায়াতের ‘শরিয়া আইন’ প্রসঙ্গ:

পুরোনো একটি রাজনৈতিক টকশো-র স্মৃতি হাতড়ে বিএনপি নেতা রাশেদ খান আরও বলেন, “তিনি (মারদিয়া মমতাজ) একদিন আমার সঙ্গে গ্লোবাল টেলিভিশনে শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পরিচয়ে টকশোতে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে জামায়াতের পক্ষে তাঁর অতিমাত্রায় ওকালতি ও বক্তব্য শুনে আমি লাইভেই বলে ফেলেছিলাম, ‘আপা, আপনি জামায়াত করেন ভালো কথা, কিন্তু শিক্ষক ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক পরিচয়ের আড়ালে টকশোতে আসার কী দরকার? নিজের আসল রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করে টকশো করলেই তো কোনো সমস্যা নেই।’ আমার এই প্রশ্নের মুখে তিনি শেষমেশ স্বীকার করতে বাধ্য হন যে— তিনি জামায়াতের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে নেই, এমনকি দলের নিয়মিত কর্মীও নন; তিনি স্রেফ একজন সমর্থক!”

​পোস্টের শেষ অংশে মারদিয়া মমতাজের আগের একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে রাশেদ খান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপা এক টকশোতে বলেছিলেন— ‘শরিয়া আইন আসমান থেকে আসা কোনো জিনিস না যে রাতারাতি বাস্তবায়ন হয়ে যাবে! শরিয়া আইন তো জামায়াতের নিজস্ব আইন, ঠিক জামায়াতে ইসলামীর মতো!’ তাঁর এই অদ্ভুত দাবি থেকেই বোঝা যায়, এই আইন বা আদর্শ এতটাই শক্তিশালী ও সুবিধাবাদী যে, নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের ভোট পাওয়ার জন্য গাড়ি, বাড়ি, অফিস কোনো কিছুরই দরকার পড়ে না; কিন্তু নির্বাচন শেষ হয়ে ক্ষমতা হাতে আসবামাত্রই তাদের আলিশান গাড়ি, সরকারি বাড়ি আর অফিসের বিলাসিতা সবার আগে লাগে!”