​গণভোটের রায় পাশ কাটানোর চেষ্টা করলে সরকার বিপদে পড়বে: খেলাফত মজলিস

গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদকে উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলে সরকার রাজনৈতিক সংকটে পড়বে বলে সতর্ক করেছে খেলাফত মজলিস। ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত।

Jul 25, 2026 - 18:29
 0  3
​গণভোটের রায় পাশ কাটানোর চেষ্টা করলে সরকার বিপদে পড়বে: খেলাফত মজলিস
×

গণভোটের রায় ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের যেকোনো একতরফা উদ্যোগ নেওয়া হলে সরকার গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়তে পারে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে খেলাফত মজলিস।

​আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ৩য় সাধারণ অধিবেশনে দলটির শীর্ষ নেতারা এ মন্তব্য করেন।

​‘গণরায় পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংস্কার গ্রহণযোগ্য নয়’

​অধিবেশনে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায় ও ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদকে একপাশে সরিয়ে রেখে সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এটি চরমভাবে জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী। জনগণ এমন একটি সংবিধান সংস্কার চায়, যা দেশে ভবিষ্যতে যেকোনো রূপ স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ চিরতরে বন্ধ করবে।

​এ সময় গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় সংসদে অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শাপলা চত্বর গণহত্যা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব বিচার দ্রুত সম্পাদন করার আহ্বান জানান তাঁরা।

১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি বয়কট ও সংসদীয় অবস্থান

​জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক ১১ দলীয় ঐক্যের বিষয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে খেলাফত মজলিস। দলটি জানায়, ওই জোট মূলত একটি 'নির্বাচনী সমঝোতা'র ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল। নির্বাচন-পরবর্তী কিছু যৌথ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া হলেও এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের সব ধরণের কার্যক্রম ও কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবে খেলাফত মজলিস।

​তবে দেশ ও ইসলামের স্বার্থে ভবিষ্যতে নতুন করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের পথ খোলা রাখা হবে। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে খেলাফত মজলিসের নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবেন বলে অধিবেশনে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সেপ্টেম্বর জুড়ে গণসমাবেশ ও স্থানীয় নির্বাচন

​অধিবেশন থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদের সপক্ষে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেশজুড়ে বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরগুলোতে বড় মাত্রায় গণসমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া আসন্ন সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় ব্যানারে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

​সকাল ৯টায় খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় এই শূরা অধিবেশন শুরু হয়।

​এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, নায়েবে আমির অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, মুফতি আবুল হাসান (এমপি) সহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও শূরার সদস্যবৃন্দ।