ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু
ফ্রান্সে জুনের শেষ সপ্তাহে রেকর্ড ভাঙা তীব্র দাবদাহে ৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা আইএনএসইই (INSEE) এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট সাম্প্রতিক স্মরণকালের ভয়াবহ দাবদাহে (Heatwave) ৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত জুনের শেষ সপ্তাহে দেশটিতে রেকর্ড তাপমাত্রা অনুভূত হওয়ার পর এই ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ‘আইএনএসইই’ (INSEE)-এর বরাত দিয়ে আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’ (BFMTV) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
এক সপ্তাহেই মৃত্যুর স্তূপ:
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন থেকে ২৮ জুনের মধ্যে ফ্রান্সে তীব্র গরমজনিত কারণে ৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য ইলেকট্রনিক ডেটাবেজে নিবন্ধিত হয়েছে। এর বাইরেও এই নির্দিষ্ট তাপপ্রবাহের দিনগুলোতে স্বাভাবিক গড় মৃত্যুর হারের চেয়ে অতিরিক্ত আরও ২ হাজার ২৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে:
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ত বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই তথ্যগুলো এখনো প্রাথমিক এবং চূড়ান্ত নয়। কারণ ফ্রান্সের ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মৃত্যুর সনদ পদ্ধতি দেশজুড়ে হওয়া সব মৃত্যুর তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে শতভাগ কভার করে না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান ডেটা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফ্রান্সে সাধারণত ইলেকট্রনিক মৃত্যু সনদ প্রায় ৬০ শতাংশ মৃত্যুকে কভার করে, তবে অঞ্চলভেদে এই হার ভিন্ন হওয়ায় দাবদাহের প্রকৃত ও চূড়ান্ত প্রভাব পুরোপুরি প্রতিফলিত হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা:
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ফ্রান্সে সম্প্রতি টানা বেশ কিছুদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে। কোনো কোনো অঞ্চলে এটি ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসও স্পর্শ করেছে। আর্দ্রতা বেশি থাকায় এবং রাতেও তাপমাত্রা না কমায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ, শিশু এবং আগে থেকেই শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকা ব্যক্তিরা এই তীব্র গরম সহ্য করতে না পেরে হিট স্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও এই তীব্র দাবদাহ ছড়িয়ে পড়ায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে সংশ্লিষ্ট দেশের আবহাওয়া দপ্তরগুলো।


