স্পিকার নির্বাচিত হলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। একই সাথে সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ, ২০২৬) সংসদের প্রথম অধিবেশনে কণ্ঠভোটে তারা সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হয়। স্পিকার হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম এবং তাতে সমর্থন জানান খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম। অন্যদিকে, সরকারি দলের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করলে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান তাতে সমর্থন প্রদান করেন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথের জন্য সংসদ অধিবেশন আধা ঘণ্টা মুলতবি করা হয়।
ব্যতিক্রমী অধিবেশন:
সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলেও এবার ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে প্রথম বৈঠকের সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সমর্থন জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সভাপতি নির্বাচন করে সংসদ অধিবেশন শুরু করার বিষয়টি নজিরবিহীন নয়। সংসদ সচিবালয় থেকেও এই প্রক্রিয়ার বিধিসম্মত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।


