চরম সেনা-সংকট, যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েলি বাহিনী: সেনাপ্রধান

ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তীব্র সৈন্য সংকটের কারণে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন সেনাপ্রধান।

Mar 29, 2026 - 07:39
 0  4
চরম সেনা-সংকট, যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েলি বাহিনী: সেনাপ্রধান
আইডিএফ প্রধান আইয়াল জামির। ছবি: সংগৃহীত
×

ইরান, হিজবুল্লাহ ও একাধিক ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধের প্রচণ্ড চাপে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ‘ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার’ বা ‘পতনের’ মুখে রয়েছে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাহিনীটির প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির। গত বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এক গোপন বৈঠকে তিনি এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ ও ‘জেরুজালেম পোস্ট’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

​অভ্যন্তরীণ সংকট ও সৈন্য অভাব:

সেনাপ্রধান আইয়াল জামির বৈঠকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বর্তমানে এক গভীর কাঠামোগত ও জনবল সংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে রিজার্ভ বা অতিরিক্ত বাহিনী দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধের চাপ আর সহ্য করতে পারছে না। তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, অতি গোঁড়া (হারেডি) ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ প্রদান, রিজার্ভ আইন সংশোধন এবং বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

​বহুমুখী ফ্রন্টে চাপের মুখে আইডিএফ:

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জামির বলেন, "আইডিএফ নিজের ভেতরে ধসে পড়ার আগে আমি ১০টি বিষয়ে লাল পতাকা (বিপদ সংকেত) তুলে ধরেছি।" বর্তমানে গাজা উপত্যকা, লেবানন, সিরিয়া এবং পশ্চিম তীরসহ অনেকগুলো সক্রিয় ফ্রন্টে একসাথে কাজ করতে গিয়ে সৈন্যরা চরমভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে সেখানে অতিরিক্ত ইউনিট মোতায়েন করতে হওয়ায় নিয়মিত বাহিনীর ওপর অসহনীয় বোঝা চেপে বসেছে।

​ভবিষ্যৎ পরিণতির সতর্কতা:

কঠোর মূল্যায়নে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান সতর্ক করে বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে সেনাবাহিনী শিগগিরই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হয়ে পড়বে। প্রয়োজনীয় আইন পাস না হওয়া এবং রিজার্ভ সৈন্যদের ওপর ক্রমাগত চাপ ইসরায়েলের সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতিতে মারাত্মক ধস নামাতে পারে। সূত্র মতে, সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।