যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই বিজয় দাবি, আসলে জিতলো কে?

এক মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র; উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করলেও আসল সমাধান খুঁজবে ইসলামাবাদ।

Apr 8, 2026 - 12:08
 0  6
যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই বিজয় দাবি, আসলে জিতলো কে?
×

দীর্ঘ ৩৯ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও চরম উত্তেজনার পর অবশেষে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুদ্ধের ময়দান শান্ত হওয়ার আগেই শুরু হয়েছে ‘বিজয়’ দাবির লড়াই। তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষই এই যুদ্ধবিরতিকে তাদের নিজস্ব সামরিক ও কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে অভিহিত করছে।

​ইরানের অবস্থান: ‘কৌশলগত বিজয়’

​ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সম্মতিতে এই যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ‘মেহর নিউজ’ জানিয়েছে, ইরান একে তাদের বিজয় হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয় বরং নিজেদের শর্তে স্থায়ী সমাধানের দিকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তারা কেবল চাপে পড়ে নয়, বরং বৃহত্তর স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

​ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের দাবি: ‘শতভাগ বিজয়’

​অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ এবং সর্বাত্মক বিজয়’ বলে দাবি করেছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, সামরিক সফলতার মাধ্যমেই এই কূটনৈতিক সুবিধা অর্জন সম্ভব হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, তাঁর দেওয়া অবকাঠামো ধ্বংসের কঠোর হুমকির কারণেই ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য হয়েছে।

​পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ইসলামাবাদের বৈঠক

​পুরো প্রক্রিয়াটি সফল হয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সক্রিয় মধ্যস্থতায়। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুপক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি নাকি নতুন কোনো সংঘাতের শুরু।

​ইরানের ১০ দফা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

​ইসলামাবাদ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে আলোচনার ‘কার্যকর ভিত্তি’ বললেও, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের বিষয়টি কতটা মেনে নেবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই সপ্তাহের এই সময়সীমায় ইরানকে চুক্তিতে আনতে চীনও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

​ জয় কার?

​গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ট্রাম্পের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ বনাম ইরানের ‘রেজিস্ট্যান্স’—এই দুইয়ের লড়াইয়ে আপাতত যুদ্ধবিরতি আসলেও ক্ষমতার ভারসাম্য কার দিকে ঝুঁকেছে, তা ইসলামাবাদের বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আপাতত ধ্বংসলীলা থামায় বড় জয় হয়েছে মানবতার।