মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে; সরকারের পরিকল্পনা জাতিকে আশ্বস্ত করতে পারছে না :ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর জানমালের নিরাপত্তা এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

Mar 5, 2026 - 15:48
 0  12
মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে; সরকারের পরিকল্পনা জাতিকে আশ্বস্ত করতে পারছে না :ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
×

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে কর্মরত প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ এখন পর্যন্ত জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারছে না।

​বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি:

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতসহ জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, চলতি অর্থবছরের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৫.৪০ শতাংশই আসে এসব দেশ থেকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে।

​হতাহত ও বর্তমান আতঙ্ক:

বিবৃতিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ইতিমধ্যে বাহরাইনে একজন এবং কুয়েতে দুইজন প্রবাসী বাংলাদেশি নি-হ-ত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন। আকাশসীমা বন্ধ হওয়ায় অনেক দেশের সাথে ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে, যা কর্মসংস্থান ও যাতায়াতে চরম বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​সরকারের প্রতি সমালোচনা ও দাবি:

গাজী আতাউর রহমান বলেন, “ভৌগোলিকভাবে যুদ্ধ দূরদেশে হলেও নাগরিকের নিরাপত্তা ও আর্থিক অভিঘাত বিবেচনায় বাংলাদেশ এই যুদ্ধের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হতে যাচ্ছে। অথচ এমন বাস্তবতায় সরকারের উদ্যোগ বা আয়োজন স্পষ্ট নয়। উদ্বিগ্ন প্রবাসী ও তাদের পরিবারকে সরকার ন্যূনতম আশ্বস্ত করতে পারছে না।”

​দাবি ও সমাধান:

ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা দ্রুততার সাথে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন: সবার আগে প্রবাসীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।বিদেশে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দিতে হবে।জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ যুদ্ধের বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারকে এখনই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

​তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে দেশ এক ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়বে।