বেকারত্বের অভিশাপ মোচনের বাজেট ঘোষণা করুন : আহমদ আবদুল কাইয়ূম
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বেকার তৈরির ফ্যাক্টরিতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে আসন্ন জাতীয় বাজেটে বেকারত্বের অভিশাপ মোচনের দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা আহমদ আবদুল কাইয়ূম।
বাংলাদেশে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেও কর্মসংস্থানের অভাবে তারা চরম হতাশায় ভুগছে এবং বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত ‘বেকার তৈরির ফ্যাক্টরিতে’ পরিণত হয়েছে বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি আহমদ আবদুল কাইয়ূম। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাবরই নামমাত্র ও কম বরাদ্দ থাকায় দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগের চাহিদা অনুযায়ী ঢেলে সাজানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সময় এসেছে বাজেট নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার এবং আসন্ন অর্থ বছরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্বের অভিশাপ মোচনের কল্যাণমুখী বাজেট ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি।
আজ ৯ জুন, মঙ্গলবার বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নিয়মিত সাপ্তাহিক মজলিসে আমেলার সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
কারিগরি খাতে অবহেলা ও বাজেটের নিম্নগামী হার:
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সভাপতি আহমদ আবদুল কাইয়ূম শিক্ষা খাতের বাজেট বরাদ্দের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলেন, “গত এক দশকের জাতীয় বাজেট পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিগত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ ১৪.০২% বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এর পরবর্তী বছরগুলোতে এই বরাদ্দের হার ক্রমান্বয়ে আরও নিম্নগামী হয়েছে। একটি উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশের সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বাজেটের এই হার খুবই নগণ্য এবং হতাশাজনক।”
তিনি গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে আরও বলেন, “বাজেটে আমাদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ করেও বাস্তবমুখী দক্ষতার অভাবে বেকারত্বের অভিশাপ মাথায় নিয়ে ঘুরতে থাকে। কর্মহীনতার এই চরম মানসিক যাতনা সহ্য করতে না পেরে অনেক মেধাবী তরুণ-তরুণী আত্মহত্যার মতো আত্মঘাতী পথও বেছে নিচ্ছে; যা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বেদনদায়ক।”
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নিয়মিত এই সাংগঠনিক সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন বাজেট ভাবনা এবং সাংগঠনিক নানা কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় মহানগর দক্ষিণের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— দপ্তর সম্পাদক ফজলুল হক মৃধা, অর্থ সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম খোকন, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কামাল হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গোলামুর রহমান আজম, মহিলা ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক শেখ আবু তাহের এবং হাফেজ সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।


