চুপ্পুর পদত্যাগকে স্বাগত, রাষ্ট্রপতি পদে ব্যক্তিত্ববান কাউকে চায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে একজন ব্যক্তিত্ববান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে একজন ব্যক্তিত্ববান, গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরপরই গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
‘ফ্যাসিবাদের পতনের পরপরই তাঁর পদত্যাগ প্রত্যাশিত ছিল’
বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “অবশেষে মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করলেন। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পরপরই তাঁর বঙ্গভবন থেকে বিদায় ও পদত্যাগ সাধারণ মানুষের কাছে প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু রাজনীতির অভ্যন্তরীণ নানা হিসাব-নিকাশ ও জটিলতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গভবনে এক ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে বহাল ছিলেন। দেরিতে হলেও তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।”
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংস্কারের দাবি
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদা ও ক্ষমতার বৈষম্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত থাকলেও বর্তমান সংবিধান ও প্রশাসনিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত ও সংকুচিত।
রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্যের আহ্বান
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, “রাষ্ট্রের যেকোনো জাতীয় সংকট বা বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে বড় দায়িত্ব ও ভূমিকা পালন করতে হয়। কিন্তু বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় তিনি কার্যত 'নখদন্তহীন' এক পদে পরিণত হয়েছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা পুনর্বিন্যাস ও বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং ঐতিহাসিক 'জুলাই জাতীয় সনদ'-এ এর আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।”
কেমন রাষ্ট্রপতি চায় দলটি?
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনা ও জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম—এমন একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিকে যেন নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।” একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।


