নোয়াখালীতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ছাত্রলীগের আগুন

নোয়াখালী জেলা শহরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে একদল তরুণ। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ‘জয় বাংলা’ ও ছাত্রলীগের স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

Jun 14, 2026 - 14:16
 0  3
নোয়াখালীতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ছাত্রলীগের আগুন
×

নোয়াখালী জেলা শহরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত বীর শহীদদের স্মরণে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ অগ্নিসংযোগের এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে বা ভোরে একদল তরুণ ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে এবং নিজেদের ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’-এর কর্মী দাবি করে এই পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি ঘটিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্তে আইনি তৎপরতা শুরু করেছে।

​গত শনিবার (১৩ জুন) ভোররাতের দিকে জেলা শহরের জজ আদালত সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভের ঠিক মাঝখানের চত্বরে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এই বর্বরোচিত অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি ঘটে।

​দিনভর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন বা সাধারণ মানুষের নজরে না আসায় ঘটনাটি পুরোপুরি ধামাচাপা ছিল। তবে শনিবার সন্ধ্যার দিকে স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের লাইভ রেকর্ড করা ২৫ সেকেন্ডের একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক ভাইরাল হলে বিষয়টি সবার সামনে প্রকাশ্যে আসে। এরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় থানা পুলিশ ও প্রশাসন।

​‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’— স্লোগান দিয়ে আগুন:

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, একদল উগ্র তরুণ গভীর রাতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে ও এর চারপাশের দেয়ালে দাহ্য পদার্থ (পেট্রোল বা অকটেন) ছিটিয়ে দাউদাউ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের তীব্রতায় স্মৃতিস্তম্ভের নিচের অংশের টাইলস ও বেশ কিছু অংশ পুড়ে কালো হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

​সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ভিডিওতে উপস্থিত অগ্নিসংযোগকারী তরুণদের মধ্যে একজনকে উচ্চস্বরে ক্যামেরার সামনে বলতে শোনা যায়:

​“স্বাধীন সার্বভৌম এ দেশ থেকে রাজাকারের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগই যথেষ্ট। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। নোয়াখালী থেকে রাজাকার বিতাড়িত করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় প্রস্তুত।”

​এই রাজনৈতিক উস্কানিমূলক বক্তব্য ও স্লোগান দেওয়ার পরপরই জড়িত তরুণেরা দ্রুত অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা:

​পবিত্র শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মারকস্তম্ভে এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নোয়াখালীর সাধারণ ছাত্র-জনতা ও স্থানীয় নাগরিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

​এ বিষয়ে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আজ জানান, “জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কারা এবং ঠিক কোন সময়ে আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে কোনো আগাম তথ্য বা অভিযোগ ছিল না। মূলত যারা এই ন্যাক্কারজনক অপরাধটি করেছে, তারাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি ভিডিও রেকর্ড করে ফেসবুকে আপলোড করার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি।”

​তিনি আরও জানান, “পুলিশের একটি বিশেষ টিম ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিদর্শন করেছে। আগুনের কারণে স্মৃতিস্তম্ভের নিচের একটা বড় অংশ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। ফেসবুকের ভিডিও ফুটেজ এবং ওই সড়কের আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করে জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত ও গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।”