মিডিয়া শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও সাহসী সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, মিডিয়া শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।

Jul 3, 2026 - 16:02
 0  5
মিডিয়া শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
×

গণমাধ্যম বা মিডিয়া শক্তিশালী হলেই দেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় উল্লেখ করে সাংবাদিকদের নির্ভয়ে বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও সাহসী সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

​তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সাংবাদিকরা নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরবেন। যে ভালো কাজ করবে তাকে যেমন স্বীকৃতি দিতে হবে, তেমনি যে অন্যায় করবে তাকেও সমালোচনার মুখোমুখি করতে হবে। সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার সাহসই সাংবাদিকতার মূল শক্তি। রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরে সঠিক পথ দেখানো গণমাধ্যমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”

​আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে এক বিশেষ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন:

জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “রাজনীতিবিদরা কোনো সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে যে কারও ভুল হতে পারে। সেই ভুলগুলো সাহসের সাথে তুলে ধরা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে সত্য প্রকাশ করাই গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব।” তবে অনেক সময় সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদ:

মির্জা ফখরুল বলেন, একটি দেশের গণতন্ত্রের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের ওপর। তাই সংবাদমাধ্যম যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেই পরিবেশ রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ব্যক্তি নয়, সবসময় কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কলম সচল রাখতে হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে দুই নতুন উপজেলা:

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ইতোমধ্যে দু’টি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে কেবল অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

​অনুষ্ঠানের শেষে তিনি ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার সাংবাদিকতার মাধ্যমে তারা গণমানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবেন এবং প্রেসক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ:

ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের এই জমকালো অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন:

​মোহাম্মদ রফিকুল হক, জেলা প্রশাসক, ঠাকুরগাঁও।

​বেলাল হোসেন, পুলিশ সুপার, ঠাকুরগাঁও।

​মির্জা ফয়সাল আমিন, সভাপতি, জেলা বিএনপি।

​পয়গাম আলী, সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি।

​অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক ও প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।