গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া সংসদ চলতে পারে না: মামুনুল হক
চুয়াডাঙ্গায় নাগরিক সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া বর্তমান সংসদ চলতে পারে না। অবিলম্বে এই রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় বিশাল নাগরিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সমাবেশে দলটির আমীর মাওলানা মামুনুল হক অন্তর্বর্তীকালীন বন্দোবস্ত ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, জনগণের দেওয়া ঐতিহাসিক গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া এই সংসদ কোনোভাবেই চলতে পারে না। অবিলম্বে এই রায় বাস্তবায়ন করা না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৩টা থেকে চুয়াডাঙ্গা শহরের ঐতিহ্যবাহী সাহিদ গার্ডেন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে এই নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি:
সমাবেশ শুরুর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে মাওলানা মামুনুল হক দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। অবিলম্বে এই রায় কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় দেশের তৌহিদী জনতা ও সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে তীব্র মাঠঘাট কাঁপানো আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা এই রায় বাস্তবায়ন করতে সরকারকে বাধ্য করব।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে বক্তব্য:
পরবর্তীতে সমাবেশের মূল পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা দেশের জনগণ আর বরদাশত করবে না। আপনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। তবে সচেতনভাবে মনে রাখবেন, আপনি এখন যে বিএনপি করছেন, তা শহীদ জিয়ার আদর্শ ও বেগম খালেদা জিয়ার সেই ঐতিহ্যবাহী বিএনপি নয়। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে যে আমলাতান্ত্রিক বা রাজনৈতিক টালবাহানা করা হচ্ছে, তা আমরা কখনোই মেনে নেব না। জনগণের সঙ্গে নির্বাচনের আগে বা পরে করা প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।”
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা:
আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও ভারতের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে মাওলানা মামুনুল হক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই স্বাধীন বাংলাদেশ আর কখনো কোনো বিদেশি শক্তির বা ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে পরিচালিত হতে পারে না। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ আর কোনো ধরনের ভারতীয় আধিপত্য ও দাসত্ব মেনে নেবে না।”
সমাবেশে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ:
চুয়াডাঙ্গা জেলা খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতৃত্বের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নাগরিক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন—
সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শারাফাত হুসাইন।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসনাত জালালী।
কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।
এছাড়া বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও খুলনা অঞ্চলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ খান, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মাওলানা আরিফুজ্জামান আরিফ, ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লালসহ স্থানীয় উপজেলা ও পৌর শাখার বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।


