‘বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি ও অপচয়ের অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বাজেট সংক্রান্ত গোলটেবিল বৈঠকে পীর সাহেব চরমোনাই ও ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের আমলাতন্ত্র ও শরীয়াহ সুশাসন নিয়ে বক্তব্য।

Jun 8, 2026 - 16:51
 0  4
‘বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি ও অপচয়ের অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি’
×

দেশের সাধারণ মানুষের রক্ত জল করা করের টাকায় প্রণীত জাতীয় বাজেটের অর্থ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ছলচাতুরি, টালবাহানা, অপচয় কিংবা যাচ্ছেতাই খরচ করার ম্যান্ডেট বা অধিকার জনগণ রাষ্ট্রীয় কোনো authority-কে দেয়নি বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। তিনি বলেন, দেশের কোটি টাকার এই বাজেটের মূল জোগানদাতা এ দেশের আপামর আমজনতা, এমনকি একজন ভিক্ষুকও নিত্যপণ্য কিনে রাষ্ট্রকে কর দেয়। তাই বাজেটের টাকায় ক্রয় দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের ধারা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।

​আজ ৮ জুন, সোমবার সকালে রাজধানী সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (DRU)-এর শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত "বাংলাদেশের আগামী অর্থবছরের বাজেট: আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা" শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় গোলটেবিল আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ক্রয় দুর্নীতি ও পাচার রোধে ‘নীতির’ পরিবর্তন জরুরি:

​পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, "সরকার প্রতিবছরই নিয়মমাফিক বিশাল অংকের বাজেট পেশ করে এবং তা সংসদে পাস করিয়ে নেয়। কিন্তু এই বাজেট সততার সাথে বাস্তবায়নে সরকারের যথাযথ নজরদারি, আমানতদারি ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার ঐতিহাসিক ঘাটতি বরাবরই পরিলক্ষিত হয়। ফলে জনগণের কষ্টের টাকায় তৈরি বাজেটের একটি বড় অংশই অপব্যয়িত ও লুণ্ঠিত হয়। সরকারের বিভিন্ন মহলের ক্রয় দুর্নীতির মাধ্যমে এই টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যায়।"

​তিনি আরও বলেন, "বাজেট কেবল একটি বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং এটি জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের এক পরম দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। জনগণের করের টাকায় বাজেট তৈরি হয়, আবার সেই বাজেট ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণের বোঝাও জনগণের ওপরেই জোর করে চাপানো হয়। অথচ দুর্নীতিগ্রস্ত সামগ্রিক সিস্টেমের কারণে সাধারণ মানুষ বাজেটের প্রকৃত সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা পায় না। তাই শুধু নেতা বা সরকার বদল করে লাভ নেই, বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করতে হলে সমাজ ও অর্থনীতির মূল ‘নীতির’ আমূল পরিবর্তন ঘটাতে হবে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই ভারসাম্য তৈরিতে ইসলামী শরীয়াহ একটি অত্যন্ত কার্যকর টুলস।"

মাদরাসায় উপবৃত্তি ও আমলাতন্ত্রের জটিলতা ভাঙার তাগিদ:

​গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ডক্টর আ ফ ম খালিদ হোসেন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কওমী ও আলিয়া—উভয় ধারার মাদরাসার সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উপবৃত্তি চালু করা, মাদরাসাগুলোর ভৌত অবকাঠামোগত টেকসই উন্নয়ন এবং উচ্চতর ইসলামিক গবেষণা খাতে বিশেষ থোক বরাদ্দের জোর দাবি জানাচ্ছি।"

​রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে এই উপদেষ্টা বলেন, "বিদ্যমান আমলাতন্ত্রের কঠোর বেড়াজাল ও ফাইলের জটিলতার জন্য দেশে কোনো কল্যাণমুখী কাজই সময়মতো ও সহজে করা যায় না। এই প্রাতিষ্ঠানিক স্থবিরতা ও জটিলতা চিরতরে রোধ করতে হলে রাষ্ট্রযন্ত্রে শরীয়াহ-ভিত্তিক সুশাসন ও খোদাভীতি প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই।"

বিশিষ্টজনদের মেলবন্ধন:

​ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সাংবাদিকতা জগতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা অংশ নেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ, বিশিষ্ট জ্যোকষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক চর্চার সম্পাদক সোহরাব হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার এম এ এম গোলাম কিবরিয়া, ইসলামিক চেম্বার অব কমার্সের সদস্য সচিব মাওলানা মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসের, নিজাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন এবং জয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান শামীম।

​দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন— ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ূম, কে এম আতিকুর রহমান, লোকমান হোসেন জাফরী, যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ, প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ এবং ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন নূর প্রমুখ।