ইসলামের আলোকে দেশ পরিচালিত হলে জনপ্রত্যাশা পূরণ হতো: গাজী আতাউর রহমান
স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরও ৩৮ শতাংশ মানুষ পুষ্টিকর খাবার কিনতে না পারা রাষ্ট্রের ধারাবাহিক ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
স্বাধীনতার অর্ধশত বছর অতিক্রম করার পরও দেশের প্রায় ৩৮ শতাংশের বেশি মানুষ প্রয়োজনীয় ও স্বাস্থ্যকর খাবার কিনে খাওয়ার সামর্থ্য না রাখা স্বাধীন রাষ্ট্রের ধারাবাহিক ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলা শাখা আয়োজিত জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেনী জেলা সভাপতি মাওলানা গাজী এনামুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নুরুল করীম আকরাম এবং মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আল মোবারক।
‘জাতিকে এই সংকট থেকে বের করতে চায় ইসলামী আন্দোলন’:
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “প্রতিবেদনে দেখা গেছে দেশের ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ—অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ প্রতিদিন ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ২,৩৩০ কিলোক্যালরি সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য হারিয়েছেন। এ চরম বাস্তবতার দায় অতীতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তাঁদের সবাইকে নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সঠিক নীতি ও যোগ্য নেতৃত্বের সমন্বয়ে রাষ্ট্রকে এই স্থবিরতা ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের করে আনতে চায়। আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য, নিরাপদ আবাসন, আধুনিক শিক্ষা ও সহজলভ্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কার:
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মহাসচিব বলেন, “যে মূলবোধ ও ইসলাম হাজার বছর ধরে এ জাতিকে মুক্তির দিশা দিয়েছে, তাকেই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। ইসলামের আলোকে দেশ পরিচালিত হলে আজ জনগণের সব অধিকার ও প্রত্যাশা পূরণ হতো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়ে ছাত্র-জনতা যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল, তা এখনও পূরণ হয়নি। দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংস্কার ছাড়াই রাষ্ট্র পুরোনো ধারায় পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানসহ সাধারণ মানুষের সকল ন্যায্য দাবির প্রতি দায়বদ্ধ। ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র না গঠন হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আদর্শিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
নতুন সেশনের কমিটি ঘোষণা:
সম্মেলনের শেষাংশে উপস্থিত প্রতিনিধি ও কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য ফেনী জেলা শাখার নতুন নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাস ও ঘোষণা করা হয়। এতে সর্বসম্মতিক্রমে প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুল করীম-কে সভাপতি এবং মাওলানা একরামুল হক ভূঁইয়া-কে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়।


