অপহরণ নয়, ধর্ষণ মামলার পর আত্মগোপনে ছিলেন শিবির নেতা জিসান: পুলিশ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ছাত্রশিবির নেতা জিসান প্রধানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণ নয়, এক নারীর সাথে প্রতারণার পর তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

Jun 13, 2026 - 12:31
 0  6
অপহরণ নয়, ধর্ষণ মামলার পর আত্মগোপনে ছিলেন শিবির নেতা জিসান: পুলিশ
×

কুমিল্লার দাউদকান্দির আলোচিত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তাকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার পর আইনি ঝামেলা এড়াতে তিনি নিজেই নাটকীয়ভাবে আত্মগোপনে ছিলেন। এদিকে উদ্ধার হওয়ার পরপরই জিসানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

​গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে জিসানকে উদ্ধার করে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ। উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেছিলেন, তাকে মাইক্রোবাস যোগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা অপহরণ করেছিল। জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

​তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিসানের অপহরণের দাবিটি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে।

​পুলিশের তদন্ত ও বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে জিসান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় এক নারীকে নিয়ে এসে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান কৌশলে ওষুধের মাধ্যমে তার ভ্রূণ নষ্ট করেন। এই ঘটনার পর ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য তীব্র চাপ দিলে জিসান বাধ্য হয়ে গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) বিয়ে করবেন বলে সম্মতি জানান।

​পুলিশ আরও জানায়, কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ওই নারীকে বিয়ে না করার এবং আইনি ব্যবস্থা থেকে বাঁচবার উদ্দেশ্যে জিসান সুকৌশলে নিজেই আত্মগোপনে চলে যান। এরপর ঘটনাটি ভিন্নখাতে মোড় নিতে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহাম্মদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করান।

​এদিকে জিসানের নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তীতে নাটকীয় উদ্ধারের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

​কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "নিখোঁজ শিবির নেতাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। ওই নারী তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ভ্রূণ নষ্টসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।"