ইরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ৫টি কফিন! খামেনি ছাড়া কফিনে রয়েছে যাদের মরদেহ?

ইরানের তেহরানের ইমাম খোমেইনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনি পরিবারের ৫টি কফিন প্রদর্শন করা হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ সেখানে না থাকলেও তাঁর মেয়ে, নাতনিসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের মরদেহ রয়েছে কফিনগুলোতে।

Jul 3, 2026 - 13:57
 0  13
ইরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ৫টি কফিন! খামেনি ছাড়া কফিনে রয়েছে যাদের মরদেহ?
×

ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেইনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানে পাঁচটি কফিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সর্বসাধারণের প্রদর্শনের জন্য আনা হয়েছে। নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যের এই মরদেহগুলো গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনার পর সেখানে সাধারণ মানুষের ঢল নামে এবং তারা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন।

​তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রদর্শিত এই পাঁচটি কফিনের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিজের মরদেহ নেই; বরং তাঁর পরিবারের অন্য পাঁচ সদস্যের মরদেহ সেখানে রয়েছে। সবকটি কফিনই ইরানের জাতীয় পতাকায় আবৃত ছিল।

কফিনে রয়েছে খামেনি পরিবারের যাঁদের মরদেহ:

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) নিশ্চিত করেছে যে, এই কফিনগুলোর মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিম্নলিখিত নিকটাত্মীয়দের মরদেহ রয়েছে:

​মেসবাহ-উল-হুদা বাঘেরি (আলি খামেনির জামাতা)

​সাইয়্যেদেহ বোশরা হোসেইনি খামেনি (আলি খামেনির বড় মেয়ে)

​জাহরা হাদ্দাদ আদেল (আলি খামেনির পুত্রবধূ)

​জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়গানি (আলি খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি)

​প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ মাস বয়সী শিশু নাতনি জাহরা মোহাম্মাদির একটি ছবি তাঁর জন্য বরাদ্দকৃত ছোট কফিনটির সামনে প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত সবার মাঝে এক অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

বিদেশি প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন:

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা ‘ইরিব’ (IRIB) জানিয়েছে, গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের প্রবেশের পর প্রথম দিকের দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিলেন আফগানিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও প্রতিনিধি দল। তাঁরা কফিনের সামনে গিয়ে বিশেষ দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে রাষ্ট্রীয় দাবি:

ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পরিবারের এই সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের শুরুর দিকে নিহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন গভীর নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।