খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা সরকারের ‘কম্প্রোমাইজ’, থাকতে পারে আমেরিকার চাপ: মাহবুব কামাল
নতুন সরকারে খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে সরকারের একটি ‘আপস’ বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহবুব কামাল। তাঁর মতে, এর পেছনে আমেরিকার চাপ থাকতে পারে।
নতুন সরকারে খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে সরকারের একটি ‘কম্প্রোমাইজ’ বা আপস বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহবুব কামাল। তাঁর মতে, আমেরিকাকে সন্তুষ্ট করতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে, অথবা এর পেছনে বড় কোনো বিদেশি চাপ থাকতে পারে।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিক মাহবুব কামাল বলেন: "সরকার শুরুতেই একটি কম্প্রোমাইজ করে ফেলেছে খলিলুর রহমানকে ফরেন মিনিস্টার করে। আমার মনে হয়, সরকার আমেরিকাকে সন্তুষ্ট করতে চাইছে অথবা এখানে এক ধরনের চাপও থাকতে পারে।"
তিনি মনে করেন, দলে যোগ্য নেতার অভাব না থাকা সত্ত্বেও একজন টেকনোক্র্যাটকে এই পদে বসানো বিশেষ ইঙ্গিতবাহী।
আমীর খসরুর উদাহরণ ও টেকনোক্র্যাট প্রসঙ্গ
টকশোতে মাহবুব কামাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার মতো যোগ্য নেতাদের নাম উল্লেখ করে বলেন, "দলে অনেক দক্ষ নেতা আছেন। উদাহরণস্বরূপ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যথেষ্ট দক্ষ এবং ইংরেজিতেও তাঁর ভালো দখল রয়েছে—যা একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য অত্যন্ত জরুরি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "টেকনোক্র্যাটদের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক আদর্শ থাকে না। তাই রাজনৈতিক নেতাদের বাদ দিয়ে এই নিয়োগ স্পষ্টতই একটি রাজনৈতিক আপস।"
ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি ও ভূ-রাজনীতি
নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন, বর্তমান সরকার একটি 'প্রো-লিবারেশন' বা মুক্তিযুদ্ধপন্থি সরকার। ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন সেটিরই প্রমাণ দেয়।
তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। তাদের সঙ্গে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বা স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কই বজায় থাকবে বলে তিনি মনে করেন।


