হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ১৫ জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে রয়েছে এলএনজি, জ্বালানি তেল ও শিল্পের কাঁচামাল।

Mar 7, 2026 - 18:40
 0  377
হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ১৫ জাহাজ
×

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই স্বস্তির খবর দিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সংঘাত শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা ১৫টি জাহাজ ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানার জন্য জরুরি এলএনজি, এলপিজি, জ্বালানি তেল এবং বিভিন্ন কাঁচামাল রয়েছে।

​শনিবার (৭ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এলএনজি ও জ্বালানি সরবরাহের চিত্র:

বন্দর সূত্র জানায়, ১৫টি জাহাজের মধ্যে অন্তত চারটিতে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রয়েছে। কাতার থেকে আসা এই এলএনজি দেশের বর্তমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

​এছাড়া আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ বন্দরে ভিড়বে:

​রোববার: এলপিজি বহনকারী ‘সেভান’।

​সোমবার: এলএনজি ট্যাংকার ‘লুসাইল’।

​বুধবার: এলএনজি ট্যাংকার ‘আল গালায়েল’।

ঝুঁকি ও পরিবহন পথ:

পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ওমান উপসাগর ও আরব সাগর হয়ে জাহাজগুলো বাংলাদেশে পৌঁছায়। কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সাতটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনের প্রধান পথ এটি। যুদ্ধাবস্থার কারণে বর্তমানে এই রুটটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও এই ১৫টি জাহাজ সংঘাত শুরুর আগেই নিরাপদ জোনে চলে আসতে সক্ষম হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, “সংঘাত শুরুর আগেই জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছিল। বর্তমানে বন্দরে জাহাজ ভিড়ানো এবং পণ্য খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করেছি।”

​তিনি আরও জানান, জ্বালানির পাশাপাশি এসব জাহাজে প্লাস্টিক, পেট্রোকেমিক্যাল ও গার্মেন্টস শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল রয়েছে, যা দেশের উৎপাদন খাতকে সচল রাখতে সহায়তা করবে।