দেশব্যাপী লোডশেডিংয়ের মধ্যে দুঃসংবাদ দিল আদানি
ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বাংলাদেশে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় দেশজুড়ে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেশজুড়ে চলমান তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের মধ্যেই নতুন দুঃসংবাদ দিল ভারতের আদানি পাওয়ার। ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশে কেন্দ্রটি থেকে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক কমে গেছে, যা জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করছে।
উৎপাদন ও সরবরাহে ধস:
পিডিবি (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আদানি পাওয়ারের ওই ইউনিটে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে গড়ে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও, বর্তমানে একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় তা কমে ৭৫০ থেকে ৭৭০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। অর্থাৎ প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন বন্ধ রয়েছে।
মেরামতে কতদিন লাগবে?
বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে ইউনিটটি পুনরায় পূর্ণ উৎপাদনে ফিরতে অন্তত ৩ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে। ফলে রাজধানীসহ সারাদেশে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বাড়ার জোরালো শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশ ভারতের এই আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে। ২০২৩ সালের মার্চে প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫০ মেগাওয়াট এবং একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও সরবরাহ শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই কেন্দ্রটি বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে আসছিল।
বর্তমানে চলমান দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা যখন তুঙ্গে, তখন আদানির এই সরবরাহ ঘাটতি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
#LoadShedding #AdaniPower #ElectricityCrisis #Bangladesh #PDB #EnergyUpdate #PressPoint


