বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দারুল উলূম হাটহাজারী
বৃহত্তর চট্টগ্রামের চকরিয়া, বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছে দারুল উলূম হাটহাজারীর ‘আল-মুঈন ত্রাণ তহবিল’। আজ ভোরে বিশেষ প্রতিনিধি দল রওনা দেয়।
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও প্লাবিত বৃহত্তর চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের পটিয়া, চকরিয়া, বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম হাটহাজারী। মাদরাসার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘আল-মুঈন ত্রাণ তহবিল’-এর উদ্যোগে বন্যা দুর্গতদের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এক বিশেষ প্রতিনিধি দল আজ বুধবার (২২ জুলাই) ভোরে জামিয়া হাটহাজারী থেকে বন্যাকবলিত এলাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
ত্রাণ কাফেলা ও প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দারুল উলূম হাটহাজারীর সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা ফোরকান আহমদ। প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে আরও রয়েছেন মাদরাসার সিনিয়র উস্তাদ মাওলানা হাফেজ মুঈনুদ্দীন, মাওলানা নিজাম সাইয়্যিদ, মাওলানা কারী নূর হোসাইনসহ ‘আল-মুঈন ত্রাণ তহবিল’-এর দায়িত্বশীল প্রতিনিধিবৃন্দ।
মুহতামিমের দিকনির্দেশনা ও বিশেষ দোয়া
আজ ভোরে কাফেলা রওনা হওয়ার প্রাক্কালে জামিয়ার মুহতামিম আল্লামা মুফতী খলীল আহমদ কাসেমী, শায়খুল হাদিস আল্লামা শাইখ আহমদ এবং মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতী জসিমুদ্দীন প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মাঠপর্যায়ে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে তাঁরা ত্রাণ কার্যক্রমের সার্বিক সফলতা ও প্রতিনিধি দলের নিরাপদ সফর কামনা করে মোনাজাত করেন।
এ সময় দেশ, জাতি ও বিশেষ করে বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনাকালে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে বন্যাকবলিত মানুষের জানমাল ও ঈমানের হেফাজত, এই বন্যায় নিহতদের মাগফিরাত, অসুস্থদের দ্রুত সুস্থতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য চরম ধৈর্যের সাথে দুর্যোগ মোকাবিলার তৌফিক কামনা করা হয়।
এছাড়া আল-মুঈন ত্রাণ তহবিলের এই মানবিক সেবা যেন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং উদ্যোগে সহযোগিতাকারী সকল দাতা, শুভানুধ্যায়ী ও স্বেচ্ছাসেবকদের খিদমত মহান আল্লাহ কবুল করেন— সে প্রার্থনাও করা হয়।
মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা
দারুল উলূম হাটহাজারী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিপদে পড়া বানিয়াদ্দম ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের অন্যতম প্রধান মানবিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। আল-মুঈন ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী, সুপেয় পানি ও নগদ অর্থ পৌঁছে দিয়ে বানভাসি মানুষের কষ্ট লাঘবে তাদের এই মানবিক ও দ্বীনি কার্যক্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।


