জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এবার মুখ খুললেন তাসনিম জারা

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নারীঘটিত ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।

Jul 22, 2026 - 13:56
 0  11
জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এবার মুখ খুললেন তাসনিম জারা
×

সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় চলছে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।

​আজ বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ স্ট্যাটাসে তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। পাঠকের সুবিধার্থে তাঁর দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের অংশবিশেষ নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:

​‘চাকরির সুপারিশের বিনিময়ে মেয়েটি কী দিয়েছে, আমরা জানি না’

ডা. তাসনিম জারা লেখেন, "সিভি অনুযায়ী তার বয়স মাত্র আঠারো। এসএসসি শেষ হওয়া মাত্রই যেহেতু চাকরি খুঁজছেন, তাই অনুমান করা যায় বাড়িতে অভাব। এই রকম সংসারে একটা চাকরি মানে শুধু চাকরি না। মানে মায়ের ওষুধ, ছোট ভাইয়ের ফিজিক্স টিচারের বেতন, বৃষ্টি এলে যে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে তা সারানো। এ দেশে গরিবের চাকরি হয় কীভাবে? পরীক্ষা দিয়ে, লাইনে দাঁড়িয়ে। আর সবশেষে, কোনো ক্ষমতাবান মানুষের দরজায় গিয়ে সুপারিশ নিয়ে। এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটির নাম এমপি সাহেব।"

​তিনি আরও যোগ করেন, "তো একদিন সিভিটা এমপি সাহেবের কাছে পৌঁছাল। হয়তো মেয়েটি নিজে নিয়ে গিয়েছিল, হয়তো পরিবারের কেউ। ভরসা নিয়ে গিয়েছিল, যেভাবে গরিব মানুষ ক্ষমতাবানদের দ্বারস্থ হয়। সিভিতে সই পড়ল। জোর সুপারিশ করা হলো। কিন্তু সুপারিশের দাম হিসেবে মেয়েটিকে কী দিতে হয়েছে? হয়তো কিছুই না। হয়তো সবকিছু। আমরা জানি না।"

​‘পাওয়ার অ্যাবিউজ’ ও তদন্তের দাবি

এই জিম্মিদশার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডা. তাসনিম জারা লিখেন, "এই ‘জানি না’টাই আসল কথা। কারণ যে সম্ভাবনাটা এখন আমাদের সামনে, সেটা কোনো সাধারণ কেলেঙ্কারি না। সম্ভাবনাটা হলো, জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য তাঁর পদের জোর খাটিয়ে একটা অসহায় মেয়েকে একা রুমে নিয়ে গেছেন চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে। সম্ভাবনা মানে প্রমাণ না, জানি। কিন্তু এই প্রশ্নটা সংসদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ আমাদের সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটি হোক, খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে মানুষটা কলঙ্কমুক্ত হবেন। আর সত্য হলে ‘মহান সংসদ’ নামের মর্যাদাটুকু বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।"

​সংসদের ভূমিকা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "আর সংসদ যদি চুপ করে থাকে? তাহলে সেই নীরবতার মানে একটাই— এই সংসদ হয়েছে গরিবকে শোষণ করার জন্য। অথবা গরিবের মেয়ে এমপির দরজায় গেলে যা ইচ্ছা তা-ই করার জন্য। প্রতিটা নির্বাচনে প্রতিটা দল আমাদের কথা দেয় দুর্নীতিমুক্ত দেশ ও জিরো টলারেন্সের। অথচ সরকার বদলায়, দল বদলায়, সুপারিশের ব্যবস্থাটা বদলায় না। এই একটা জায়গায় সব দল একমত। কেন? যার সই ছাড়া চাকরি হয় না, সেই গরিব মানুষটাকে জিম্মি রাখার জন্যই কি? আজকের গল্পটা দেখিয়ে দিল, এই জিম্মিদশার দাম কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে।"

​উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নারীঘটিত এক ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি লিখিত বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে।