ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

Mar 1, 2026 - 10:50
 0  5
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত
×

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) সকালে বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজসহ ইরানের সরকারি ও বেসরকারি সকল সংবাদমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শহীদি মৃত্যু ও রাষ্ট্রীয় শোক:

ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি (IRIB) তাদের বিশেষ বুলেটিনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খামেনির মৃত্যুতে ইরানে পরবর্তী ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

হামলার প্রেক্ষাপট:

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানে খামেনির বাসভবন ও প্রাসাদ লক্ষ্য করে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী। হামলার পর শনিবার রাতেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর দাবি করেন। যদিও তেহরান প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেছিল, তবে আজ রোববার সকালে তারা খামেনির নিহতের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেয়।

খামেনির প্রভাব ও রাজনৈতিক জীবন:

১৯৮৯ সালে ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আলী খামেনি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সামরিক, বিচার এবং গোয়েন্দা বিভাগসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার প্রভাব ছিল একচ্ছত্র। তার দিকনির্দেশনাতেই ইরানের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হতো।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

১৯৭৯ সালে শিয়াপন্থি বিপ্লবের মাধ্যমে তৎকালীন শাহ মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ইরানে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই বিপ্লবের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন আলী খামেনি। তার মৃত্যুতে কেবল ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হলো।

সূত্র: তাসনিম নিউজ, ফার্স নিউজ ও আইআরআইবি।