নতুন গভর্নর স্বাক্ষরিত নোট ছাড়ল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষরযুক্ত ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের নতুন কাগুজে নোট বাজারে ছাড়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য নোটও আসবে।

May 19, 2026 - 11:32
 0  3
নতুন গভর্নর স্বাক্ষরিত নোট ছাড়ল বাংলাদেশ ব্যাংক
×

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষরযুক্ত নতুন কাগুজে নোট বাজারে ছাড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমান সরকারের যাত্রার শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব পাওয়া মোস্তাকুর রহমানের সই করা ১,০০০, ৫০০ এবং ১০ টাকা মূল্যমানের নোট প্রাথমিকভাবে বাজারে ছাড়া হয়েছে।

​সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান মতিঝিল কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব নোট ইস্যু করা হয়। পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেশের অন্যান্য শাখা কার্যালয় থেকেও নতুন স্বাক্ষরযুক্ত এই নোটগুলো সরবরাহ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

​রং ও নকশা অপরিবর্তিত:

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন গভর্নরের স্বাক্ষরযুক্ত ১,০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের নোট আপাতত বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ২০, ৫০ এবং ১০০ টাকার নোটও নতুন গভর্নরের স্বাক্ষর দিয়ে ইস্যু করা হবে। তবে নতুন স্বাক্ষরযুক্ত হলেও এসব নোটের রং, আকার, জলছাপ, মূল নকশা ও সব ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আগের মতোই সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকবে।

স্থাপত্যের নকশা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নোটগুলো ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নকশায় ছাপানো হয়েছে। জুলাই আন্দোলন–পরবর্তী সময়ে নতুন নকশা প্রণয়নের অংশ হিসেবে নোটে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এবার মূলত নকশা একই রেখে শুধু বিদায়ী গভর্নরের পরিবর্তে নতুন গভর্নরের স্বাক্ষর প্রতিস্থাপন করে নতুন করে মুদ্রণ করা হয়েছে।

​এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তৎকালীন গভর্নর আহসান হাবিব মনসুরের স্বাক্ষরে নতুন নকশার এই নোটগুলো বাজারে এসেছিল। ওই সিরিজে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যকে ফুটিয়ে তোলা হয় এবং আগের সিরিজ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বাদ দেওয়া হয়।

অর্থ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ:

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরও পরিষ্কার করা হয়েছে যে, নতুন সিরিজের ১, ২ ও ৫ টাকার কাগুজে নোট বা কয়েন এখনো নতুন গভর্নরের স্বাক্ষরে ছাপানো হয়নি। তবে বাজারে প্রচলিত আগের সব ধরনের কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা (কয়েন) আগের মতোই সমান্তরালভাবে সচল ও বৈধ থাকবে।

​কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নতুন গভর্নর স্বাক্ষরিত এই নোটগুলো বাজারে ছাড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রচলিত অর্থ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ব্যাংকিং খাতসহ সাধারণ বাজারে ‘ফ্রেশ নোট’ বা নতুন করকরে নোটের চলমান চাহিদা পূরণ করা।