রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে এ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে সরকার।
চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয় অনন্য মর্যাদায় স্মরণ করতে এ বছর দেশব্যাপী ব্যাপক ও অভূতপূর্ব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্য, জাতীয় সম্মান ও বিস্তারিত কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, রাষ্ট্রীয় দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনের জন্য জরুরি ও প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট কর্ম-নির্দেশনা পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
দিবসটি পালনের লক্ষ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার চূড়ান্ত কার্যবিবরণী দেশের সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবিলম্বে পরবর্তী প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখার উপ-সচিব শবনম মুস্তারী রিক্তা স্বাক্ষরিত এক সরকারি পত্রে এই মহাপরিকল্পনার তথ্য জানানো হয়।
শীর্ষ পর্যায় থেকে মাঠ প্রশাসন: এক সুতোয় পুরো দেশ
মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সরকারি চিঠি ও কার্যবিবরণী অনুযায়ী, দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে সফল করার লক্ষ্যে সরকারের একদম শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলার প্রান্তিক মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত ব্যাপক ও সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এই জাতীয় কর্মসূচির সাথে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দেশের সকল সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি অঙ্গকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে সভার সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে আনুষ্ঠানিক স্মারক পাঠানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রচার মাধ্যমের ওপর বিশেষ দায়িত্ব:
জাতীয় এই দিবসটির গুরুত্ব ও কৌশলগত নিরাপত্তা বিবেচনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (DGFI) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ (DMP) দেশের সকল গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রস্তুতিমূলক মহড়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন (BTV), বাংলাদেশ বেতার, তথ্য অধিদপ্তর (PID) এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল তাৎপর্য, শহীদ ও আহতদের বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে মাসব্যাপী বিশেষ প্রচার কার্যক্রম, তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের জন্য বলা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বড় বড় আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক উৎসব, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ স্মারক প্রকাশনার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় একযোগে আয়োজন:
মাঠ প্রশাসনের অংশ হিসেবে দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কাছে সভার কার্যবিবরণী পাঠানো হয়েছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় প্রধান কর্মসূচির পাশাপাশি একযোগে দেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং প্রত্যন্ত গ্রামীণ পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত ও একরূপ কর্মসূচি পালিত হবে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবহন, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, প্রবাসী কল্যাণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে খাতভিত্তিক বিশেষ আয়োজন ও প্রদর্শনী করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মর্যাদা রক্ষা ট্রাস্ট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ স্কাউটস, বিএনসিসি (BNCC) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন ছাত্র-জনতার সামাজিক সংগঠনকেও এই উদযাপনে সক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে জাতীয় ইতিহাসের একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে রূপ দিতে দেশব্যাপী সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সেমিনার, শহীদ পরিবারদের সংবর্ধনা, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলোতে আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা, সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা এবং ব্যাপক গণসচেতনতামূলক কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


