শাপলা চত্বরের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে’: শাহবাগে খেলাফত ছাত্র মজলিস

আওয়ামী লীগের আমলের গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে শাহবাগে ছাত্র সমাবেশ ও শহীদ মিনারে পদযাত্রা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস।

Jul 3, 2026 - 21:42
 0  3
শাপলা চত্বরের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে’: শাহবাগে খেলাফত ছাত্র মজলিস
×

বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ‘জুলাই সনদের’ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সংগঠনটির ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে এক বিশাল ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত "জুলাই পদযাত্রা" কর্মসূচি পালন করেন।

​বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি আদনান রাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ।

পিলখানা ও শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দাবি:

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বলেন, “বিগত দীর্ঘ দেড় দশকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত সকল গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানই নয়, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও শাপলা চত্বরের নির্মম অভিযানের মতো প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুততম সময়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে।” তিনি শাপলা চত্বরে নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থান শুধু কোনো সরকার পরিবর্তনের সাধারণ আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল বৈষম্য, কর্তৃত্ববাদ ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল সংগ্রাম। তিনি অনতিবিলম্বে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং ছাত্ররাজনীতি থেকে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের স্থায়ী অবসানের দাবি জানান।

ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান:

সভাপতির বক্তব্যে আদনান রাফি বলেন, ছাত্রসমাজ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার যেকোনো আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধরে রাখতে এবং এর লক্ষ্য অর্জনে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে উপস্থিত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ:

ছাত্র সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন:

​প্রিন্সিপাল রাকিবুল ইসলাম, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস এবং সেক্রেটারি, বাংলাদেশ খেলাফত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।

​মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ মিসবাহ, কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য।

​মুহাম্মাদ দিদারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য।

​আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা জাকারিয়া আল ফারুকী এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

কেন্দ্রীয় ও মহানগরের দায়িত্বশীলবৃন্দ:

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুশতাক আহমেদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক সাখাওয়াত হুসাইন হাসিব, বায়তুল মাল সম্পাদক আহমদ মুরসালিন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল আহাদ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এহসান সাজিদ উপস্থিত ছিলেন।

​এছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শাহ আহমাদুল্লাহ মাহমুদ, পূর্বের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি আতিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাবিবুর রহমান, গাজীপুর মহানগর সভাপতি ইমরান হুসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বায়তুল মাল সম্পাদক আলী হাসান তন্ময়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ সজীব মিয়া এবং নরসিংদী জেলা সভাপতি মাহমুদুল হাসান সিনানসহ বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী পদযাত্রায় অংশ নেন।