বরিশালে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা, ৭ জনের মৃত্যু

বরিশাল বিভাগে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে; গত ৩ মাসে ২০৬ শিশু আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

Mar 31, 2026 - 08:45
 0  85
বরিশালে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা, ৭ জনের মৃত্যু
×

বরিশাল বিভাগে অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত গত তিন মাসে বিভাগজুড়ে ২০৬ জন শিশুর দেহে হামের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৭ জন শিশু। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

শেবাচিম হাসপাতালের চিত্র ও প্রাণহানি

​বরিশালের শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে গত তিন মাসে ১৩০ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে কেবল মার্চ মাসেই আক্রান্ত হয়েছে ৮৯ জন। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) বানারীপাড়ার ওমর নামে এক শিশুর মৃত্যু হয় এবং সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর জানান, সাধারণত ৯ মাস বয়সে টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে ৭ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যেও এই সংক্রমণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

জেলার ভিত্তিক টিকার পরিস্থিতি

​স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলায় বর্তমানে হামের টিকার কিছুটা সংকট থাকলেও বাকি ৫টি জেলায় পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। শেবাচিম হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং শয্যা সংকট নিরসনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও সতর্কতা

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে দ্রুত ছড়ায়। তিনি বলেন, “রোগীর সাথে একই ঘরে থাকলেও সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারে। যেকোনো বয়সেই এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখতে হবে।”

​সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ভোলা জেলায় দ্রুত টিকা সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।