কুমিল্লায় মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা: বাদীর ‘যুবদল’ পরিচয় ভুয়া দাবি স্থানীয় নেতাদের
বোরকা নিয়ে কটূক্তির জেরে মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় মামলা হয়েছে। তবে মামলাটির বাদি জালাল আহমেদ খোকন যুবদলের কেউ নন এবং তাঁর এই পদবি সম্পূর্ণ ভুয়া বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতারা।
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সংসদে বোরকা সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই মামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২০ জুন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে মামলা দায়েরের পর বাদীর এই রাজনৈতিক পরিচয়কে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতারা।
বাদীর পরিচয় ভুয়া ও ছদ্মবেশী দাবি বিএনপি-যুবদলের:
মামলাটি দায়েরের পর বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার যুবদলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা নন। তিনি মূলত আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী এবং পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সাবেক যুবলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত একজন ব্যক্তি কীভাবে যুবদলের ভুয়া পরিচয় লাগিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীরের মতো একজন শ্রদ্ধেয় নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
একই বিষয়ে সুর মিলিয়ে কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান স্পষ্ট করে বলেন, “জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার যুবদলের কেউ নন, এই পরিচয় সম্পূর্ণ ভুয়া। তিনি আগে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।”
মামলার এজাহার ও অভিযোগ:
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তাঁর ছবি ব্যবহার করে তাঁকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগ এনে এই মামলা দায়ের করা হয়।
বাদী, বিবাদী ও পুলিশের বক্তব্য:
পরিচয় ভুয়া দাবি করার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার বলেন, “আমার নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেই আমি মামলা করেছি। আমি যে যুবদল কমিটিতে আছি, সেটি এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর ঘোষিত কমিটি, এটি কেন্দ্রীয় যুবদলের অনুমোদিত মূল ধারার কমিটি নয়।”
এদিকে কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি এম.এম. বিলাল হোসাইন বলেন, “মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও চক্রান্তমূলক। পরিচয় গোপন করে ভুয়া পদবি ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার এই ছদ্মবেশী অপচেষ্টা আমরা আইনিভাবেই মোকাবিলা করব।”
মামলা গ্রহণের বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমেই মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, “যে কেউ আইনের আশ্রয় নিয়ে মামলা করতে পারেন, এটি পদ-পদবির বিষয় নয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই-বাছাই করেই মামলাটি নেওয়া হয়েছে।”


