ড. ইউনূস পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না: শফিকুল আলম
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেই কাজ চালিয়ে যাবেন এই নোবেলজয়ী।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডেই মনোযোগ ড. ইউনূসের
শফিকুল আলম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির আসনে ড. ইউনূসের আসীন হওয়া নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা তৈরি হলেও তিনি এই পদে যাচ্ছেন না।
তিনি আরও জানান, ড. ইউনূস মূলত তাঁর বৈশ্বিক কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমেই পুরো মনোযোগ ধরে রাখতে চান। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক ব্যবসার প্রসার এবং তাঁর বহুল আলোচিত ‘থ্রি জিরো’ (তিনটি শূন্যের বিশ্ব—অর্থাৎ শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) ধারণার বাস্তবায়ন ও প্রচারে তিনি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
এর আগে বঙ্গভবন সূত্রের বরাতে জানা যায়, নিউরো কেন্দ্রিক জটিল শারীরিক সমস্যায় ভোগা বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) স্পিকারের বরাবরে পদত্যাগপত্র জমা দিতে যাচ্ছেন। পদত্যাগের পর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য স্ত্রীসহ সিঙ্গাপুর যাবেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দিলে স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের কার্যাবলি পরিচালনা করবেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
পটভূমি ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ৯ মে চিকিৎসা ও ফলোআপ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডনে যান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। চিকিৎসা শেষে ১৮ মে দেশে ফিরলেও পরবর্তীতে ঐ সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে স্পর্শকাতর কিছু তথ্য উঠে আসে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে গোয়েন্দা নজরদারিতে উঠে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।


