পলাশবাড়ীর ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে জনমনের উদ্বেগ দূর করুন: হেফাজত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বৃহৎ ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ এবং সেখানে বিদেশি কূটনীতিকদের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে বিষয়টি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে হেফাজত।

Jun 7, 2026 - 19:29
 0  7
পলাশবাড়ীর ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে জনমনের উদ্বেগ দূর করুন: হেফাজত
×

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকায় বৃহৎ আকারের একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ এবং সেখানকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ধারাবাহিক অংশগ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ও স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান আজ এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদাত্ত আহ্বান জানান।

​আজ রবিবার (৭ জুন) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে হেফাজতের শীর্ষ নেতৃদ্বয় বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকায় বিশাল পরিসরে একটি হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ, সেখানে বড় বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং এসব কর্মসূচিতে বিদেশি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ঘনঘন ও ধারাবাহিক অংশগ্রহণ স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন, সন্দেহ ও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করে হেফাজত:

বিবৃতিতে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, "বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র। এ দেশের প্রতিটি নাগরিক সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন—এটি আমাদের জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। হেফাজতে ইসলাম সর্বদাই এ দেশের সকল ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করে আসছে।"

​তবে ভৌগোলিক ও কৌশলগত বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বিবৃতিতে বলা হয়, "পলাশবাড়ীর মতো ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় এত বৃহৎ আকারের ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ, এই প্রকল্পগুলোর বিপুল অর্থায়নের মূল উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নেপথ্য ভূমিকা এবং সেখানে বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের মাত্রাতিরিক্ত সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। জনমনে উত্থাপিত এই যৌক্তিক প্রশ্নগুলোর একটি স্বচ্ছ, আইনি ও গ্রহণযোগ্য উত্তর নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।"

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বে উদাসীনতার সুযোগ নেই:

হেফাজতের শীর্ষ নেতৃদ্বয় সরকারকে সতর্ক করে বলেন, "কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা তার প্রতিনিধিদের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড যদি আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে, সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট করে কিংবা ভবিষ্যতে কোনো ধরনের কৌশলগত জটিলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি করে, তবে তা রাষ্ট্রীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থ, ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের উদাসীনতা বা শিথিলতার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।"

​সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বেসামরিক প্রশাসন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, এই সংবেদনশীল বিষয়গুলো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে গভীর পর্যালোচনা করে জনগণের মনের বর্তমান সন্দেহ ও উদ্বেগ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে এমন কোনো পদক্ষেপ বা উস্কানি গ্রহণ করা যাবে না, যাতে দেশের দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ন্যায়সঙ্গত আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।

​বিবৃতির শেষে নেতৃদ্বয় আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক ধর্মীয় শ্রদ্ধাবোধ অক্ষুণ্ন রেখেই দেশের মাটিতে সকল সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। একমাত্র প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং দেশের সার্বভৌম স্বার্থের প্রতি অটল অঙ্গীকারের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা আরও সুসংহত হতে পারে।